জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাইলে নির্বাচনী এলাকার এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর ও মোবাইল নম্বর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেয়ার বিধান রেখেছে নির্বাচন কমিশন। আর এই বিধানেই কপাল পুড়ছে অধিকাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীর। চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ৩০ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ২০ জনেরই মনোনয়ন বাতিল হয়েছে সমর্থনসূচক এক শতাংশ ভোটারের তথ্যে গরমিলের কারণে।
চট্টগ্রামের ১৬ আসনে এবার মোট ৩০জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করে। গত ৩ ও ৪ ডিসেম্বর এসব আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়। এসময় ৩০জনের মধ্যে ২০ জনেরই জমা দেয়া এক শতাংশ ভোটারের তথ্য ও স্বাক্ষরে গরমিল খুঁজে পান নির্বাচনী কর্মকর্তারা। যে কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এদের মধ্যে আবার বেশির ভাগই আওয়ামী লীগ নেতা।
বাদপড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন, চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে মো. শাহজাহান, মো. রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী ও মো. গোলাম নওশের আলী, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড) আসনে মো. সালাহ উদ্দিন ও মো. ইমরান, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে মো. নাছির হায়দার করিম ও মুহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে শফিউল আজম, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালি-চান্দগাঁও) আসনে আবদুচ ছালাম, বিজয় কুমার চৌধুরী ও মো. আরশেদুল আলম, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসনে মো. ওসমান গণি, ফরিদ মাহমুদ ও মো. ফয়সাল আমিন, চট্টগ্রাম-১১ (পতেঙ্গা-বন্দর) আসনে রেখা আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে মো. ইলিয়াছ মিয়া ও গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে আবদুল মোতালেব ও আ ম ম মিনহাজুর রহমান।
রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মো. ফখরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর জমা দেয়া এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর মাঠ পর্যায়ে যাচাই করা হয়। এসময় প্রার্থীর দেয়া তথ্যে গরমিল পাওয়া গেলে কিংবা স্বাক্ষরকারী অস্বীকার করলে ওই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এদিকে, নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী ৫ডিসেম্বর থেকে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। সে অনুযায়ী বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।