পর্যটকদের বিশ্বাসকে পুঁজি করে প্রতিষ্ঠানের আড়ালে কম মূল্যে ট্যুর প্যাকেজের নামে বুকিং মানি নিয়ে প্রতারণা করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গতকাল সোমবার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ একটি ল্যাপটপ, ১৪টি পাসপোর্ট, ১০টি মোবাইল ফোন, ১৫টি সিমকার্ড, ২টি ল্যান্ডফোন, একটি ওয়াকিটকি সেট, একটি সিপিইউ ডেস্কটপ, পাঁচটি এটিএম কার্ড এবং ছয়টি ব্যাংক চেক উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- চক্রের মূলহোতা সাইফুল আলম ওরফে অপু ও তার আপন ভাই মো. আহাদ আলম ওরফে তালহা ও কথিত অ্যাডমিন মো. আমিনুল ইসলাম।
ডিএমপি ডিবি’র প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ মঙ্গলবার তার নিজ কার্যালয়ে বলেন, চক্রটি অল্প দামে ট্যুর প্যাকেজ বিক্রির নামে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছে। গত এক বছরে চক্রের হাতে দুই শতাধিক ব্যক্তি প্রতারিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে তারা কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ট্রিপকার্ড’ নামের কথিত ট্যুর অপারেটর মালিক অপু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পেজে বিজ্ঞাপন দিতেন। তারা বিভিন্ন প্যাকেজের আওতায় দিন ও রাত থাকা, হোটেলে বুকিং, এয়ারপোর্ট পিকআপ, ড্রপআপ, গাইডের মাধ্যমে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণের সুবিধা করে প্যাকেজ ঘোষণা করেন। তারা মানুষের বিশ্বাস অর্জনের জন্য গুলশান, বারিধারা, ধানমন্ডিসহ অভিজাত এলাকায় অফিস নেন। মানুষও সরল মনে বিশ্বাস করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্যাকেজ ঠিক করে এবং অগ্রীম টাকা দেয়। এরপর তাদের কাঙ্খিত স্থানে না নিয়ে কালক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে লোকজনের ফোন ধরা বন্ধ করেন এবং অফিস পরিবর্তন করেন।
এ কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ দায়ের করেন। পরে তারা তদন্তে নেমে সত্যতা পান ও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেন। এ চক্রটি এক এলাকায় অফিস খুলে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে গাঁ ডাকা দিতেন। এরপর দুই মাস আত্মগোপনে থেকে ভিন্ন নামে আরেক এলাকায় একই কাজ করতেন। অপুর নেতৃত্বে চক্রটি গত ছয় মাসে প্রায় ৫৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমরা তাদের ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডের তথ্যে গত ছয় মাসে শতাধিক মানুষের সঙ্গে প্রতারণার তথ্য পেয়েছি।