বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে গবেষণা ও উদ্ভাবনের অগ্রগামী যাত্রায় ৬৩ বছর পূর্ণ করল আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)। এই দীর্ঘ অভিযাত্রায় গবেষণার পাশাপাশি গবেষণালব্ধ চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করে মানুষের প্রাণরক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, কলেরার প্রকোপ রোধে ১৯৬০ সালের ৫ ডিসেম্বর তৎকালীন সাউথইস্ট এশিয়া ট্রিটি অর্গানাইজেশন (সিয়াটো) এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের (এনআইএইচ) -এর সহায়তায় কলেরা রিসার্চ ল্যাবরেটরি (সিআরএল) হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির নাম হয় আইসিডিডিআর,বি।
দিবসটি উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর আইসিডিডিআর,বি প্রাঙ্গণে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে আইসিডিডিআর,বি আইন ২০২২ এর প্রথম বর্ষপূর্তিও উদযাপিত হয়েছে। গত বছর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে আইসিডিডিআর,বি আইন-২০২২ পাস হয়। এই আইনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইসিডিডিআর,বি-এর ভূমিকার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করে আইসিডিডিআর,বি। সেমিনারে আইসিডিডিআর,বি-র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, শিশুদের ডায়রিয়াজনিত রোগের মৃত্যুহার কমাতে আইসিডিডিআর,বি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং ধনুষ্টংকার টিকার গবেষণাতেও আইসিডিডিআর,বি-র উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়া মুখে খাওয়ার কলেরা ভ্যাকসিন উন্নয়ন, অপুষ্টির চিকিৎসার জন্য গাইডলাইন এবং বৈশ্বিক পোলিও নির্মূল প্রচেষ্টায় অবদান রেখেছে আইসিসিডিআর,বি।
বিকেলে আইসিডিডিআর,বি-র কর্মীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পিঠা উৎসবেরও আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আইসিডিডিআর,বি-র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ার ন্যান্সি চেংয়ের একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়।