৩৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ইনফ্রাটেকের এমডি রতনের

কাগুজে প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ড শেয়ার ট্রেডিংয়ের নামে আরব বাংলাদেশ (এবি) ব্যাংক থেকে ৩৫০ কোটি ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মেসার্স ইনফ্রাটেক কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী হায়দার রতনকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ২৭ নভেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তার ধানম-ির মাইডাস সেন্টারের অফিসের ঠিকানায় পাঠানো নোটিস পাঠানো হয়।

নোটিসে তাকে আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত নোটিসে বলা হয়, মেসার্স ইনফ্রাটেক কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও ব্র্যান্ড উইন কোম্পানি লিমিটেডের এমডি আলী হায়দার ও অন্যদের বিরুদ্ধে এবি ব্যাংকের নির্বাহী ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদের সহযোগিতায় অল্প জামানত রেখে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে নামসর্বস্ব কোম্পানি ব্র্যান্ড শেয়ার ট্রেডিংয়ের নামে ৩৫০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগের বিষয়ে আপনার বক্তব্য গ্রহণ ও শ্রবণ করা প্রয়োজন। তাই আগামী ৬ ডিসেম্বর দুদকে হাজির হয়ে আপনার বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো। দুদকের টেবিলে থাকা অভিযোগে বলা হয়, ব্র্যান্ড শেয়ার ট্রেডিং লিমিটেড ২০২২ সালের ৯ জুন আমদানি, রপ্তানি ও সরবরাহকারী হিসেবে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তর (আরজেএসসি) থেকে নিবন্ধন নেয়। গত বছরের ৭ নভেম্বর ১০ হাজার টাকা জমা দিয়ে এবি ব্যাংকের গুলশান শাখায় কোম্পানিটির চলতি হিসাব খোলে তারা। আর ১০ জানুয়ারি ৩৫০ কোটি টাকা ঋণ চেয়ে আবেদন করে ব্র্যান্ড শেয়ার ট্রেডিং। আবেদনে মালিক দেখানো হয় আতাউর রহমান ও মামুনুর রশিদকে। দ্রুত সময়ে ঋণ দিতে আবেদন জমা দেওয়ার দিনই এবি ব্যাংকের গুলশান শাখার ম্যানেজারসহ তিনজন কর্মকর্তা মাইডাস সেন্টার পরিদর্শন করে পরের দিন প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ব্র্যান্ড শেয়ার ট্রেডিং বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি ও নির্মাণসামগ্রী, রাসায়নিক পদার্থ ও খাদ্যপণ্য আমদানি করে থাকে। এরপরই ৯ ফেব্রুয়ারি ৩৫০ কোটি টাকা ঋণ সুবিধা অনুমোদন করে ব্যাংক। বিএএফআইর তথ্য অনুযায়ী ব্র্যান্ড শেয়ার ট্রেডিং কোম্পানির ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিক মোহাম্মদ আতাউর রহমান একজন ছাত্র ও ১০ শতাংশ শেয়ারের মালিক মামুনুর রশিদ বেসরকারি চাকরিজীবী। তবে এবি ব্যাংকে হিসাব খোলা এবং ঋণের আবেদন-সংক্রান্ত সব তথ্য জমা দেন আলী হায়দার রতন।