পরমাণু অস্ত্রের ব্যাপারে সব সময়ই কড়া গোপনীয়তা বজায় রাখে দেশগুলো। তেমনই ইসরায়েল ও কখনই তার পারমাণবিক অস্ত্রাগারের অস্তিত্ব স্বীকার করেনি। এছাড়া পরমাণু অস্ত্র মজুতের ব্যাপারে কখনোই খোলাসা করে কিছু বলেনি দেশটি।
যদিও স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষক, মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা যে দেশটিতে অন্তত অল্প সংখ্যক পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।
তবে এবার খোলসা হল অন্য তথ্য। ইসরায়েলের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস।
বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে সোমবার (৪ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, গত ৭ অক্টোবর হামাসের একটি রকেট ইসরায়েলি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছিল।
মধ্য ইসরাইলের সেদত মিচা নামক স্থানে এক পারমানবিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটি হামাসের হামলার শিকার হয় বলে জানায় নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, হামাসের হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি তেমন না হলেও এর কাছাকাছি স্থানে আগুন ধরে যায়।
সেখানে আরও অনেক ধরনের ‘স্পর্শকাতর অস্ত্র’ মজুত করা ছিল বলে দাবি করা হয় নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে।
তবে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের কথা ইসরায়েল স্বীকার না করলেও ফেডারেশন অফ আমেরিকান সায়েন্টিস্টস নিউক্লিয়ার ইনফরমেশন প্রজেক্টের পরিচালক হ্যান্স ক্রিস্টেনসেন নিউইয়র্ক টাইমসের কাছে দাবি জানিয়েছেন যে, তার অনুমান ইসরায়েলের ঘাঁটিতে সম্ভবত ২৫ থেকে ৫০টি পরমাণু-সক্ষমতার জেরিকো ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক রয়েছে।
এছাড়া বিশেষজ্ঞদের মতে এবং মার্কিন সরকারী নথি অনুযায়ী, ইসরায়েলের জেরিকো মিসাইল পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম।
তিনি আরও বলেন, এই ওয়ারহেডগুলি সম্ভবত ঘাঁটি থেকে দূরে একটি পৃথক স্থানে রাখা ছিল যার কারণে হামাসের হামলার সময় এরা হুমকির মুখে পড়েনি।
সতর্কীকরণ অ্যালার্মের ডাটা অনুসারে, সেদত মিচার আশপাশের অঞ্চলে কয়েক ঘণ্টা ধরে রকেট হামলা চালিয়েছিল হামাস। হামলার দিন ইসরায়েলের আয়রন ডোম এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে কতগুলো রকেট আটকাতে সক্ষম হয়েছিল, তা জানা যায়নি। তবে হামাসের বেশ কিছু রকেট আয়রন ডোমের সুরক্ষাব্যূহ ভেদ করে ঢুকে পড়ে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়।
নিউইয়র্ক টাইমসের এ অনুসন্ধানের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র।
নিউইয়র্ক টাইমস পারমাণবিক ঘাঁটিতে আগুন শনাক্ত করতে নাসার স্যাটেলাইট ইমেজ ব্যবহার করে। সেখানে দেখা যায় যে, ২০০৪ সাল থেকে এ ঘাঁটিতে এরকম কোন আগুনের ঘটনা ঘটেনি।
এছাড়া স্যাটেলাইট ছবি, রকেট অ্যালার্ম রেকর্ড এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলোর মাধ্যমেও এই ঘাঁটিতে হামলার প্রমাণ পায় মার্কিন গণমাধ্যমটি।