গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) কয়েকটি গণমাধ্যমের অনলাইন ভার্সনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন সম্পর্কে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। যা অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও সত্যের অপালাপমাত্র। গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরে এ মাধ্যম। কিন্তু এ ধরনের উদ্ভট, অলীক ও কল্পনাপ্রসূত সংবাদ কীভাবে প্রকাশ পায় সেটা বোধগম্য হচ্ছে না।
প্রতিবেদকের উচিত ছিল, এ ধরনের একটি সংবাদ প্রকাশের আগে প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলা। সেটা না করে তিনি একপেশে সংবাদ পরিবেশন করে সাংবাদিকতার নীতিপরিপন্থি কাজ করেছেন; যা কাম্য নয়।
প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, ৮ ডিসেম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ১ম পর্বের পরীক্ষা হওয়ায়, ভিড় ও তদবির এড়াতে প্রতিমন্ত্রীর মিন্টো রোডস্থ বাসায় অপরিচিত কাউকে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধ করা হয়। ৭ ডিসেম্বর কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিমন্ত্রীর মিন্টোরোডস্থ সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করতে চাইলে হাউসগার্ড বাধা দেয়। কিন্তু তারা বাধা অগ্রাহ্য করে বাসার ভেতর প্রবেশ করে এবং গার্ডদের সঙ্গে চিৎকার, চেঁচামেচি ও ধস্তাধস্তি করতে থাকে। শোরগোল শুনে বাসার লোকজন জানতে আসলে তাদের সাথেও আগন্তুকরা দুর্ব্যবহার শুরু করে। একপর্যায়ে পালিয়ে যাবার সময় একজন পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী দ্ব্যার্থহীনভাবে জানান, তার সময়ে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকসহ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নসহ ফলাফল প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ (বুয়েট)। এখানে অন্যকোনো কিছু করার প্রশ্নই আসে না। ২০২২ সালে ৩৭ হাজার ৫ শত ৭৪ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে; যা স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ। কেউ এ নিয়োগ নিয়ে কোন ধরণের প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারেনি। আসন্ন নিয়োগ পরীক্ষাও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হবে বলে প্রতিমন্ত্রী সবাইকে আশ্বস্ত করতে চান।
প্রতিমন্ত্রী আশা করেন, প্রকৃত তথ্য জানার পর এ ব্যাপারে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে। গণমাধ্যম সঠিক সংবাদ পরিবেশন করবে।