'আমার ঘরে খাওয়ার মতো এক ছটাক চালও নাই, আগুনে পুড়ে সব শেষ অইয়্যা গেছে। বউ-পোলাপানডি লাইয়া এহন আমি কি খাইয়াম (খাব)?' কথাগুলো বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের পাড়াপাঁচাশি গ্রামের দরিদ্র কৃষক মাহবুবুর রহমান (৩৫)।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আরও বলেন, ঘরে থাকা সব মালামালাসহ প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে তার। ছেলের স্কুলে যাওয়ার একটা সাইকেল ছিল সেটাও শেষ। কত কষ্ট করে ধানগুলো সিদ্ধ করে রোদে শুকিয়ে ঘরে রাখছিলাম সব কিছুই শেষ।
সরজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ভাত খাওয়ার জন্য একটা থালাবাটিও বাকি নেই। গোসল করে পরার জন্যও নেই অবশিষ্ট কোনো কাপড়। যেখানটায় ঘরটা ছিল তার ভিটের ওপর শুধু ছাই। এক কোণায় পড়ে আছে আধপোড়া ধান-চাল। রয়েছে গৃহস্থালির নানা কিছু।
স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শী কৃষকের ভাতিজি মারুফা আক্তার বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। আগুন দেখতে পেয়ে আমি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে ঘরের সবকিছুই পুড়ে শেষ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে আগুন নেভাতে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস রওনা দেয়। রাস্তা ভালো না থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারনি। তার আগেই আগুন নিযন্ত্রণে আনে এলাকাবাসী।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে শুক্রবার আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আগুনে পুড়ে কৃষক মাহবুবুর রহমানের সব শেষ হয়ে গেছে। লাখ টাকার ওপর ক্ষতি হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। এছাড়া সরকারিভাবে উপজেলা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সাহায্য করার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।
ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক মিলন বলেন, গরিব কৃষকের ঘরে আগুন লাগার ঘটনায় আমি খুব মর্মাহত। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছাব্বির আহমেদ আকুঞ্জি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবেদন করলে তার প্রেক্ষিতে সরকারিভাবে সহযোগিতা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।