ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ঢাকার খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। আজ শনিবার রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ বাজার কারওয়ান বাজারে খুচরা বিক্রেতারা দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ২০৪ টাকা কেজি দরে। আর ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৭০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১০ টাকা।
গতকাল শুক্রবার ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়াতে ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর পর দেশে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এ ছাড়াও, স্থানীয় বাজারে চাহিদা অনুযায়ী পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই।
সূত্রাপুর বাজারের খুচরা পেঁয়াজ ব্যবসায়ী বলরাম সাহা বলেন, গত কয়েক দিন ধরেই বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তি। পাইকারি বাজারে আমাদের কেনাই বেশি পড়ছে। যে কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাবে পড়েছে। ভোরে শ্যামবাজার থেকে বহু কষ্টে এলসির (ভারতীয়) দুই মণ পেঁয়াজ এনেছি। আমি পাইকারিতে কিনেছি ৭ হাজার ৪০০ টাকা মণ দরে। আনতে খরচ পড়ছে ৪০০-৪৫০ টাকা। এখন ২০০ টাকা কেজি না বেচলে তো লস।
শ্যামবাজার পেঁয়াজ পাইকার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল মাজেদ গণমাধ্যমকে বলেন, 'ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে এর বড় প্রভাব পড়েছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিও পেঁয়াজের দামে প্রভাব ফেলেছে। সরবরাহ কমে যাওয়া দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়ার আরেকটি কারণ।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ড. গোলাম রহমান বলেন, ভোগ্যপণ্যের অস্বাভাবিক দামে নিদারুণ কষ্টে পরিবার নিয়ে সময় কাটছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের। বাড়তি মুনাফা হাতিয়ে নিতে অসাধু ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে কিনা–সেটি খুঁজে বের করতে বাজার তদারকির বিকল্প নেই। দুর্ভাগ্য, এখনও মাঠ পর্যায়ে কাউকে দেখা যাচ্ছে না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের বিষয়টি নিয়ে আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করব। চলতি মাসে বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজ উঠলে দাম কমবে। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতেই নতুন পেঁয়াজের মৌসুম শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘কারসাজি চক্র’ সব সময়ই সুযোগ খোঁজে পণ্যের দাম বাড়ানোর। তবে আমরা বাজারে পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি বন্ধে অভিযান জোরদার করব।