নাটকের মঞ্চেই বিয়ে হয়েছিল শাহনাজ খুশি-বৃন্দাবনের

শাহনাজ খুশি এ দেশের ঘরে ঘরে পরিচিত নাম। এই মুহূর্তে চ্যানেল আইয়ে তার প্যারালাল ধারাবাহিকটি চলছে। যেখানে চঞ্চল চৌধুরীর স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। মজারবিষয় হলো শাহনাজ খুশি ক্যারিয়ারের অধিকাংশ কাজ করেছেন চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গেই।  অভিনেত্রী বললেন, ‘আমার কাজের প্রায় নব্বই ভাগ আমি চঞ্চলের সঙ্গে কাজ করেছি। এমন না যে তার স্ত্রীর চরিত্রেই অভিনয় করেছি। বেশিরভাগ নাটকে ভাইবোন চরিত্রে ছিলাম আমরা। কখনো ভাবি, দেবর এমন অনেক নাটকেও কাজ করেছি।’

চঞ্চল চৌধুরী-শাহনাজ খুশি বেশ ভালো বন্ধুই। এই বন্ধুত্বের গল্পটা অনেকেই জানেন সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে। কেননা ফেসবুক হ্যান্ডেলে খুশি নানা সময়ে বন্ধুত্বের গল্প লিখে গেছেন। কিন্তু এই বন্ধু অভিনয়শিল্পী হিসেবে কেমন, অন্তত খুশির চোখে অভিনয়শিল্পী কেমন? খুশি বলেন, ‘অভিনয়শিল্পী হিসেবে চঞ্চল চৌধুরী একজন ক্ষুধার্ত। তিনি পরিশ্রমী অভিনয়শিল্পী। কাজপাগল মানুষ। অভিনয়ের জন্য তিনি সবকিছু থেকে নিজেকে সরিয়ে ফেলতে পারেন। ব্যক্তি সম্পর্কগুলোকেও আলাদা করে তিনি অভিনয়ের প্রতি মনোযোগী হতে পারেন।’

আর ব্যক্তি চঞ্চল বেশ ‘আউলাঝাউলা’। হ্যাঁ, এমন শব্দই চঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে মনে করলেন খুশি। বললেন, ‘চঞ্চল একটু উদাসীন, সংসারের প্রতি খেয়াল কম হলেও কিন্তু ভীষণ ভালো মানুষ। সহশিল্পীর প্রতি এমন বিশ্লেষণই বলে দিচ্ছে তাদের বন্ধুত্ব কতটা শক্তপোক্ত, যা প্রোথিত দুই পরিবারের মধ্যে। শাহনাজ খুশি নিজের অভিনয়ে আসার কাহিনি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছিলেন। সেটা আরেকবার পাঠকদের জন্য বললেন। সঙ্গে যুক্ত করলেন নতুন তথ্য। খুশি বৃন্দাবন দাসের জন্য ঘর ছেড়েছিলেন এটা আগে বলেছিলেন। কিন্তু বিয়েটা থিয়েটারে হয়েছিল সেটা সবিস্তারে বলেননি। নিজের বিয়ে সম্পর্কে বলতে গিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘১৯৯৪ সালে আমি পাবনার ঘর ছেড়ে ছিলাম। এই ঘর ছাড়ার সঙ্গে আমার নতুন ললাট লিখন হয়ে যায়। মানে অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা; বলা যায় বিয়ের আসর থেকেই। আমার বিয়ে হয়েছিল আরণ্যক থিয়েটারে। বাড়ি থেকে চলে এসে বিয়েও হলো থিয়েটারে আর সেই থিয়েটারেই কাজ শুরু করলাম। কখনো ছোট কখনো লিড রোল। এরপর মামুনুর রশীদ ভাইয়ের হাত ধরে টেলিভিশন নাটক শুরু। পরে অবশ্য প্রাচ্যনাটে চলে আসি।’

অভিনয় না করলে হয়তো নিঃসঙ্গ হয়ে যেতেন দেশের টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী, এমনটাই তিনি বোধ করেন। খুশি বলেন, ‘আসলে আমি যদি অভিনয় না করতাম তাহলে হয়তো এত বড় একটা পরিবার পেতাম না। নিঃসঙ্গ হয়ে যেতাম। অভিনয়ের পরিবার আমার এখন প্রাণের অংশ।’

প্যারালাল ধারাবাহিকে আবার ফিরে আসি, এটি লিখেছেন বৃন্দাবন দাস পরিচালনা করছেন এজাজ মুন্না।