নওয়াজ শরিফ বললেন

‘কারগিল যুদ্ধের বিরোধীতা করায় আমাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল’

কার্গিল যুদ্ধের বিরোধিতা করায় তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। শনিবার (৯ ডিসেম্বর) নিজ দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন) এর পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভায় তিনি এ কথা বলেন।  

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই এর এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানি নেতার এই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। ওই সভায়, পিএমএল-এন শীর্ষনেতা বলেন, ‘১৯৯৯ সালে আমাকে কেন ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল, তা বলা উচিত। কারগিল যুদ্ধের সময় আমি যখন বিরোধিতা করে বলেছিলাম, এই যুদ্ধে জড়ানো উচিত হবে না। তৎকালীন জেনারেল পারভেজ মোশাররফ আমাকে তখন ক্ষমতাচ্যুত করলেন। আমি যা বলেছি, পরে তা সত্য হয়েছে।'

ক্ষমতায় থাকার সময় ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল বলে জানান নওয়াজ। তিনি বলেন, ‘আমি ক্ষমতায় থাকার সময় ভারতের দুই প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেশে সফর করেছেন। একজন অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদি।’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল করার তাগিদ দিয়ে নওয়াজ বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও ভাল করতে হবে। এছাড়া আফগানিস্তান ও ইরানের সঙ্গেও সম্পর্কের উন্নয়ন করতে হবে। চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও মজবুত করতে হবে।’  

আগামী ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে নওয়াজের দল পিএমএল-এন। নির্বাচনের আগে ভারত সম্পর্কে নিজের মনোভাব জানালেন নওয়াজ।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৯-এর মে মাসে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে মুশকো, দ্রাস, কাকসার এবং বাতালিক, কারগিল সেক্টরে ঢুকে পড়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। তাদের সরিয়ে দিতে অভিযানে নামে ভারতীয় সেনারা। সেই অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন বিজয়’। ১৯৯৯ সালের মে থেকে জুলাই কারগিল যুদ্ধে পাকিস্তানের চার শতাধিক এবং ভারতের পাঁচ শতাধিক জওয়ান নিহত হয়। সে সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নওয়াজ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল পারভেজ মোশাররফ।

আন্তর্জাতিক চাপে কারগিল থেকে পাকিস্তানি সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। ১২ অক্টোবর ১৯৯৯, জেনারেল মোশাররফ তখন দেশের বাইরে। এই সুযোগে তাকে সেনাপ্রধানের পদ থেকে বরখাস্ত করেন নওয়াজ এবং সামরিবাহিনীকে তার দেশে প্রবেশ ঠেকানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু সেনাবাহিনী উল্টো নওয়াজের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান করে বসে এবং তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে পাকিস্তানের মসনদে জেনারেল পারভেজ মোশাররফকে বসিয়ে দেয়।