‘আল্লাহর কাছ থেকে আমার বাবাকে কিনে আনতে আমি টাকা জমা করছি। আমি বড় হয়ে পুলিশ অফিসার হবো।’ গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশের দিন হত্যাকাণ্ডের শিকার পুলিশ সদস্য আমিরুল ইসলাম পাভেজের ছোট্ট মেয়ে তানহা আজ রবিবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কথাগুলো বলেন।
এসময় আমিরুল ইসলামের স্ত্রী রুমা আক্তার বলেন, ‘ছয় বছরের তানহা বারবার প্রশ্ন করে, বাবা কবে আসবে? কোনো পুলিশ সদস্য টাকা দিলে সেই টাকা সে জমিয়ে রাখে এবং টাকা জমিয়ে তার বাবাকে সে কিনে আনবে বলে। বড় হয়ে আমার মেয়ে পুলিশ হবে এবং বাবার হত্যার বিচার করবে।’
তিনি বলেন, ‘আমার দুই সন্তান তাদের বাবার লাশ ধরতে পারেনি। তাদের এখন একটাই প্রতিজ্ঞা পুলিশ হয়ে বাবা হত্যার বিচার করা। পুলিশ দেখলেই তারা বাবাকে খোঁজে।’
শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ‘মায়ের কান্না’ ও ‘অগ্নি-সন্ত্রাসের আর্তনাদ’ নামের দুটি সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে রুমা আক্তার আরও বলেন, ‘আমিরুলকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমরা তার মুখটাও দেখতে পারিনি। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই—আমিরুলকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, হত্যাকারীদের যেন তার চেয়েও কঠিন শাস্তি দেওয়া হয়।’
বলেন, ‘তার কী দোষ ছিল? কেন তাকে হত্যা করা হলো? সে তো কোন রাজনীতি করত না। তাকে কেন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হত্যা করা হলো?’
সম্প্রতি বিএনপির অবরোধ চলাকালে আছিম পরিবহনের একটি বাসে আগুন দিলে বাসটির মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা হেলপার আবু নাঈম পুড়ে মারা যান। অনুষ্ঠানে আবু নাঈমের মা তার বক্তব্যে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলাম-বিএনপি মানুষ পুড়িয়ে মারছে। আমার ছেলেকে পুড়িয়ে মেরেছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর কঠিন বিচার চাই। তারা যাতে বুঝতে পারে সন্তান হারানো মায়ের কষ্ট কি- সেজন্য তাদের কঠিন বিচার চাই।’
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী ও দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট তারানা হালিম ও শহীদ বুদ্ধিজীবী আব্দুল আলিম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী।