ওয়ার্ড ভিজিটের সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর স্বজনকে বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলায় মেহেরপুর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ড ও হিসাবরক্ষকের কক্ষে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে মেহেরপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সদর উপজেলার শ্যামপুর ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই ও তার লোকজন।
গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে অ্যাটেনডেন্টকে এ কথা বললে তিনি মোবাইলে কল করে দলবল এনে এই কা- ঘটান। হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছে একজন ওয়ার্ডবয়কে এবং কর্তব্যরত সেবিকাসহ কয়েকজনকে লাঞ্ছনা করা হয়েছে। এ সময় ওয়ার্ডে চিকিৎসারত রোগীরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) ডা. জামির হাসিবুর সাত্তার বলেন, ‘একজন জনপ্রতিনিধি ও চিকিৎসকের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়। আমরা হাসপাতালের স্টাফ মিটিংয়ে বসে করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। আগের এমন অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোতে পুলিশকে অভিযোগ করে কোনো ফল না পাওয়ায় বারবার এমন ঘটনা ঘটছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার আদালতে মামলা করব। এখন নিরাপত্তার দাবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাওয়ার কথা ভাবছেন।’
জানা যায়, হাসপাতালের সাবেক নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. আবুল কাশেমের বাবা আলী হোসেন (৭২) পুরুষ ওয়ার্ডের চিকিৎসাধীন। তিনি স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই। সকালে রুটিন ওয়ার্ড ভিজিটের সময় ওই রোগীর অ্যাটেনডেন্টকে ওয়ার্ডের বাইরে অপেক্ষা করতে বললে তিনি উত্তেজিত হয়ে কয়েকজনকে মোবাইল করে হাসপাতালে ডেকে আনেন। এরপর ডা. আবুল কাসেম ও শ্যামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতির ছোট ভাই রফিকুলসহ বহিরাগত ৮-১০ জন ওয়ার্ডে ঢুকে এই হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেন। হামলাকারীরা হাসপাতালের নার্স ও ডাক্তারদের ওপর চড়াও হন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এ ঘটনায় হিমেল নামে এক ওয়ার্ড বয় আহত হন।
পরে, হামলাকারীরা হাসপাতালের হিসাবরক্ষকের রুমে দ্বিতীয় দফা হামলা, ভাঙচুর চালান। এ সময় তারা হাসপাতালটিতে কর্মরত কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করেন।
হাসপাতালের আরএমও মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘হাসপাতালে ওয়ার্ড ভিজিটের সময় এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা একটি নিয়মিত ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। সার্বক্ষণিক ভীতি নিয়ে আমাদের চিকিৎসাসেবা দিতে হয়।’
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রফিকুলের বড় ভাই মতিউর রহমান মতি বলেন, ‘হাসপাতাল সুপারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ছোট ভাইয়ের সঙ্গে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তাই কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সব ক্ষতি আমি পুষিয়ে দেব বলেছি। সমঝোতার প্রক্রিয়া চলছে। এসব নিয়ে রিপোর্ট না করাই ভালো।’