দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল পিঠ। জয় ছাড়া বিকল্প ছিল না। কিন্তু ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পারল না গা ঝাড়া দিয়ে উঠতে। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো ইংলিশ ক্লাবটিকে।
ইউরোপ সেরার মঞ্চে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শুধু জিতলেই হতো না ইউনাইটেডের, পক্ষে আসতে হতো অন্য ম্যাচের ফলও। কিন্তু নিজেদের কাজটিও করতে পারল না এরিক টেন হাগের দল। ঘরের মাঠ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তারা হেরে গেল ১-০ গোলে। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন কিংসলে কোমান।
আগেই গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করা বায়ার্ন এদিন অবশ্য খুব একটা ভালো ফুটবল খেলতে পারেনি। তবে, শুরু থেকে পজেশন ধরে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করতে থাকে তারা। তাতে শেষ পর্যন্ত হাসি ফোটে তাদের মুখে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দুই ম্যাচ পর জয়ে ফিরল জার্মান ক্লাবটি। ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্রয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বে পা রাখল তারা। ৪ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থেকে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকেই ছিটকে গেল ইউনাইটেড।
প্রথমার্ধে কয়েকটি ভালো সুযোগ পায় বায়ার্ন। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি তারা। ইউনাইটেড ম্যাচের প্রথমভাগে ছিল একদম নিষ্প্রভ। বিরতির পর তাদের আক্রমণের ধার কিছুটা বাড়ে। কয়েকটি ভালো আক্রমণ শাণায় দলটি।
ম্যাচের ডেডলক ভাঙে ৭০তম মিনিটে। পাসিং ফুটবলে শাণানো আক্রমণে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ওয়ান-টাচ পাসে ভেতরে বল বাড়ান হ্যারি কেইন। আর অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে বক্সে ঢুকে নিচু শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কোমান। আর সেখানেই শেষ হয়ে গেল ইউনাইটেডের আশা।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে এতটা খারাপ অবস্থা কখনও হয়নি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। এর আগে তাদের সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স ছিল ২০০৫-০৬ মৌসুমে; সেবার ৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করেছিল তারা।
এদিকে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান আগেই নিশ্চিত হওয়ায় শেষ ম্যাচে দলে অনেক পরিবর্তন আনেন আর্সেনাল কোচ। আগের ম্যাচের দলে আটটি পরিবর্তন আনার প্রভাব পড়ে তাদের পারফরম্যান্সে। পিএসভি আইন্দহোভেনের বিপক্ষে তারপরও প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল আর্সেনাল। কিন্তু পরে গোল হজম করে ১-১ ড্র করেছে তারা। গ্রুপের আরেক ম্যাচে সেভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ফরাসি ক্লাব লঁস।