বিএনপি সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করলেন আ.লীগ নেতা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিএনপির সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেছেন ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আব্দুর রউফ।

গত রবিবার রাতে এক ওয়াজ মাহফিলে আব্দুর রউফ এই বক্তব্য দিলেও মঙ্গলবার রাত থেকে তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

ভিডিওতে তাকে বলতে শুনা যায়, বিএনপির ভাইয়েরা  যদি নৌকা মার্কায় ভোট দিতে ইচ্ছা না করে তাহলে কেন্দ্রে যাওয়ার দরকার নেই। তার কারণ, আমরা আওয়ামী লীগের দুইটা প্রার্থী, আমরাই ভোট দিয়ে যাকে মনোনীত করি তিনিই আমাদের এমপি হবেন।

ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ফতেপুর উত্তরপাড়া মসজিদ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ওয়াজ মাহফিলে ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুর রউফ বলেন, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে আসেনি, খালি আওয়ামী লীগ নির্বাচনে আসছে। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খান আহমেদ শুভ। আরেকজন বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন।

তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন তিনি যদি এমপি হন তাহলে আমি এই গ্রামে অনেক কাজ করতে পারব।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ফতেপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আমীর হোসেন লেবু বলেন, ‘রউফ চেয়ারম্যানের বক্তৃতায় ইউনিয়নবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ বলেন, ‘ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগ নানা ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে। আর সেই মুহূর্তে রউফ চেয়ারম্যান ভোটারদের কেন্দ্রে না আসার জন্য বলছেন। তার বক্তব্যের দায়ভার শুধু তার।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফের সঙ্গে কথা বলতে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কায়ছারুল ইসলাম বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফের বক্তৃতার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনের এমপি ও আ.লীগ মনোনিত প্রার্থী খান আহমেদ শুভ বলেন, চেয়ারম্যান আব্দুর রউফের বক্তব্য সম্পূর্ণ তার নিজের। এ দায় তার।

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান আ.লীগ নেতা আব্দুর রউফের এই বক্তব্য  নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার সন্ধায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদুর রহমান এই জরিমান করেন।