যোগাযোগের চার প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল ২৮৯ কোটি টাকা

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্যমান রানওয়ে ও টেক্সিওয়ের শক্তি বৃদ্ধি করা, বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ এবং ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহ, গ্লোবাল মেরিটাইম ডিস্ট্রেস অ্যান্ড সেফটি সিস্টেম অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম এবং ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ২৮৯ কোটি ২২ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ ব্যয় বাড়ানোর অনুমোন দেওয়া হয়। সভা শেষে সভার সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান।

তিনি জানান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ‘চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্যমান রানওয়ে ও টেক্সিওয়ের শক্তিবৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পের ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ৭৭ কোটি ৫২ লাখ ৪১ হাজার ২৫ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সময়ে জাপানের অর্থায়নে এ বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা হয়। ওই সময়ে রানওয়ে সম্প্রসারণসহ বিটুমিনাস কংক্রিটের মাধ্যমে বিদ্যমান রানওয়ের শক্তিবৃদ্ধিকরণ কাজও করা হয়েছিল। তখন রানওয়ের পেভমেন্ট ক্লাসিফিকেশন নম্বর (পিসিএন) ছিল ৬৬, যা ডিসি-১০-৩০ জাতীয় বিমান চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছিল। বর্তমানে এ বিমানবন্দরে বোয়িং-৭৭৭ জাতীয় সুপরিসর বিমান চলাচল করছে।

দীর্ঘদিন ধরে এই বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন রুটে ফ্লাইট চালু করার দাবি জানিয়ে আসছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতারা। ঢাকা-চট্টগ্রাম-ব্যাংকক ও চট্টগ্রাম-কলকাতা রুটে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চালুর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সর্বশেষ গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীকে চিঠি দিয়েছেন চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের তৎকালীন সভাপতি এবং বর্তমানে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছয়টি বিদেশি ও দুটি দেশি এয়ারলাইনস ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সেগুলো হলো চট্টগ্রাম-দুবাই রুটে ফ্লাই দুবাই, চট্টগ্রাম শারজাহ ও আবুধাবি রুটে এয়ার আরাবিয়া, চট্টগ্রাম-কুয়েত রুটে জাজিরা এয়ার ওয়েজ, চট্টগ্রাম-মাস্কাট রুটে ওমান এয়ার ও সালাম এয়ার এবং চট্টগ্রাম কলকাতা রুটে স্পাইস জেট। এ ছাড়া বাংলাদেশ বিমান জেদ্দা, দুবাই, ওমান, শারজাহ ও ইউএস বাংলা মাস্কাট ও দোহা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের আগমন ও বহির্গমন হয়। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রুটে ১৫ থেকে ১৭টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়।

গতকালের সভায় একই সঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ এবং ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পের ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ১৭৭ কোটি ৪৮ লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

১৫০টি কোচের মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিøপিং বার্থ ৩০টি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ ৩৮টি, শোভন চেয়ার ৪৪টি, খাবার গাড়িসহ শোভন চেয়ার কোচ ১৬টি, পাওয়ার গাড়িসহ শোভন চেয়ার কোচ ১২টি, রাষ্ট্রীয় পরিদর্শনের জন্য বুলেটপ্রুফ কোচ ১টি, খাবার গাড়ি ১টি, পাওয়ার গাড়ি ১টি এবং পরিদর্শন গাড়ি ১টি।

কোচ সংগ্রহ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে অতি পুরাতন ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ প্রতিস্থাপন এবং মিটারগেজ ও ডুয়েলগেজ সেকশনে যাত্রীবাহী ক্যারেজের স্বল্পতা দূর করা, উন্নতমানের আধুনিক ও নিরাপদ যাত্রীবাহী ক্যারেজের মাধ্যমে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা, বর্ধিত যাত্রী চাহিদা মেটানোর জন্য নতুন ট্রেন চালু করা, বাংলাদেশ রেলওয়েতে মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করা, বাংলাদেশ রেলওয়ের মিটারগেজ ও ডুয়েলগেজ সেকশনে নিরাপদ ও উন্নত ট্রেন পরিষেবা নিশ্চিত করা, বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা এবং ক্রমবর্ধমান যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিষেবা বৃদ্ধি করা।

এদিকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক উইকেয়ার ফেজ-১ : ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের পরামর্শক ব্যয় ৫ কোটি ১৯ লাখ ১ হাজার ৭৮৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যৌথভাবে রয়েছেÑ ভারতের ইন্টারন্যাশনাল কনসালট্যান্ট অ্যান্ড টেকনোক্র্যাটস প্রাইভেট লিমিটেড, ইউকের রোফটন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং বাংলাদেশের বিসিএল অ্যাসোসিয়েট।

এ ছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন নৌপরিবহন অধিদপ্তর কর্তৃক এস্টাবলিশমেন্ট অব গ্লোবাল মেরিটাইম ডিস্ট্রেস অ্যান্ড সেফটি সিস্টেম অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম প্রকল্পে নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কোরিয়ার এলজি-স্যামহি কনসোটিয়ামকে ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ২৯ কোটি ২ লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয় বৃদ্ধির ক্রয় প্রস্তাব দেওয়া হয়।

দেশের ১৪ হাজার ২৫০টি কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য ৬৯ হাজার ৩৭৫ কার্টনে ২২ প্রকার ওষুধ সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য এই ওষুধ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

সাঈদ মাহবুব খান জানান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক দেশের ১৪ হাজার ২৫০টি কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ৬৯ হাজার ৩৭৫ কার্টনে ২২ প্রকার ওষুধ সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।