শুরুতেই হোঁচট খেল বার্সেলোনা। পরে ঘুরে দাঁড়ালেও ম্যাচের লাগাম ধরে রাখতে পারল না তারা। নিজেদের মাঠে উজ্জীবিত ফুটবল খেলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায়ের আগে প্রথম জয় তুলে নিল এন্টওয়ার্প। তবে হেরেও গ্রুপ সেরা হয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।
নকআউট পর্বে খেলা আগেই নিশ্চিত করা বার্সেলোনা গতরাতে এন্টওয়ার্পের মাঠে হেরে যায় ৩-২ গোলে। এই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় টিকেটের লড়াই চলছিল পোর্তো ও শাখতার দোনেৎস্কের মধ্যে। শাখতারকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে পোর্তো। বার্সেলোনার সমান ১২ পয়েন্ট পেলেও মুখোমুখি লড়াইয়ে পিছিয়ে গ্রুপ রানার্সাআপ হয়েছে পোর্তো।
এন্টওয়ার্পকে ঘরের মাঠে ৫-০ গোলে উড়িয়ে গ্রুপ পর্বের পথচলা শুরু করেছিল বার্সেলোনা। ফিরতি লেগে অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিল এন্টওয়ার্প। গ্রুপ পর্বে টানা পাঁচ হারের পর জয় পেল বেলজিয়ামের দলটি।
আট পরিবর্তন এনে একাদশ সাজানোর কথা ম্যাচের আগেই বলেছিলেন বার্সেলোনা কোচ। সে অনুযায়ী ছক কষে শুরুতে ধাক্কা খায় বার্সেলোনা। দ্বিতীয় মিনিটে আর্থুর ভেরমিরেনের গোলে এগিয়ে যায় এন্টওয়ার্প।
‘খর্ব শক্তির’ বার্সেলোনার রক্ষণে চাপ দিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণের জন্য চেষ্টা করতে থাকে এন্টওয়ার্প। ধীরে ধীরে বার্সেলোনা কিছুটা গুছিয়ে উঠলেও এন্টওয়ার্পকে পরীক্ষা নেওয়ার মতো কোনো আক্রমণ শাণাতে পারছিল না। ৩৫তম মিনিটে প্রথম গোছালো আক্রমণে ওঠে তারা এবং পেয়ে যায় সমতায় ফেরা গোলের দেখা। গোলটি করেন ফেররান তরেস।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ইয়ানসেন জালে বল জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল পায়নি স্বাগতিকরা। ৫২তম মিনিটে বার্সেলোনার ইয়ামালের শট পোস্ট কাঁপিয়ে ফিরে।
পরের মিনিটেই কেইতাকে ফাউল করেন সের্গি রবের্ত; শুরুতে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি, পরে ভিএআরে দেখে সিদ্ধান্ত পাল্টে দেখান হলুদ কার্ড; তাতে স্বস্তি ফিরে বার্সেলোনার তাঁবুতে। নিজেদের ভুলে সে স্বস্তিও উবে যায় ৫৬তম মিনিটে। এবার রোমেউ বক্সের বাইরে বল হারান আল হাসান ইউসুফের কাছে। নাইজেরিয়ান এই মিডফিল্ডারের পাস থেকে এন্টওয়ার্পকে এগিয়ে নেন ইয়ানসেন।
এরপরই তিনটি পরিবর্তন আনেন বার্সেলোনা কোচ শাভি। মাঠে নামান ইলকাই গিনদোয়ান, জোয়াও কানসেলো ও পেদ্রিকে। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে দারুণ নাটকীয়তায় ম্যাচের ভাগ্য দুলতে থাকে পেন্ডুলামের মতো। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই ফ্রি কিক থেকে হেডে মার্ক গিউ সমতা ফেরান।
পরের মিনিটেই লিনিখেনা পাল্টা আক্রমণ থেকে স্কোরলাইন করেন ৩-২। এরপর শেষের বাঁশি বাজতেই অভাবনীয় এক জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে এন্টওয়ার্পের গ্যালারি।