আজ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামসরা বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। বুদ্ধিজীবী হত্যার ঠিক দুদিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের দায়িত্বশীলদের দৈনিক দেশ রূপান্তরের বিশেষ আয়োজন—
আজও সেই বুদ্ধিবৃত্তিক শূন্যতা— জুলফিকার আলি মাণিক
ছবি আঁকেন অনেকে, কিন্তু ছবি এঁকে বিবেককে জাগান ক’জন চিত্রশিল্পী? পেশাদার চিকিৎসক অনেক, কিন্তু চিকিৎসা দিয়ে সেবার মানসিকতা বিস্তৃত করেন কজন? বিদ্যালয়ে পাঠদান করেন বহু শিক্ষক, তাদের ক’জন মানুষকে প্রকৃত শিক্ষা ও গুণাবলিতে আলোকিত করেন? লেখক আছে অনেক, ক’জন লেখনী দিয়ে অচেতনের চেতন ফেরান? অনেকে নাটক-সিনেমা বানান, তাদের ক’জন নিজের কাজ দিয়ে নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার করেন সভ্যতাকে? সংগীতশিল্পী অনেকে, ক’জন ন্যায্যতার পক্ষে জয়গান গাইতে মানুষকে উজ্জীবিত করেন? সাংবাদিক অনেক, তাদের ক’জন সাহসের সঙ্গে সত্য সাধনায় ব্রত হতে উদ্বুদ্ধ করেন মানব সমাজকে? বিজ্ঞান গবেষকরা নানান কিছু উদ্ভাবন করেন, কিন্তু ক’জন বিজ্ঞানী মনুষ্যত্ব বিকাশে মানুষের চিন্তাকে পরিশীলিত করেন? বিনোদন জগতে জনপ্রিয় অনেকে, সেই তারকাদের ক’জন সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে প্রভাবিত করেন মানুষকে। চিন্তাশীল অনেকেই, তাদের ক’জন সুচিন্তায় ধাবিত করেন মানবগোষ্ঠীকে? প্রশ্নের এই তালিকা দীর্ঘ করা যায়, তবে প্রয়োজন নেই। এমন অনেক প্রশ্নের উত্তরে যাদের খুঁজে পাওয়া যায় তারা সব সমাজেই সংখ্যায় খুব কম। তারা নিজের পেশা বা কাজের পরিচয়কে ছাপিয়ে সমাজের বুদ্ধিজীবী হয়ে ওঠেন।
বিস্তারিত পড়ুন এখানে
দলান্ধ বুদ্ধিব্যবসার চক্র— মাসকাওয়াথ আহসান
১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে একটি জ্ঞাননির্ভর সমাজের পাটাতন নির্মিত হতে থাকে এই বঙ্গে; বিকশিত হয় মধ্যবিত্ত শ্রেণি। ব্রিটিশের শৃঙ্খল মুক্তির পরে স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের অংশ হওয়া যে নতুন এক ঔপনিবেশিক শক্তির খপ্পরে পড়া পরাধীনতার আরেকটি রূপ তা বুঝতে এতটুকু দেরি হয়নি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির। ব্রিটিশ পূর্ব বাংলাদেশ ছিল কৃষি-শিল্প-বাণিজ্যের এক সচ্ছ্বল জনপদ। ব্রিটিশরা সম্পদ লুণ্ঠন করে বিলেতে নিয়ে যায়। ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে একটি কোলাবরেটর জমিদার শ্রেণি তৈরি করে। জমিদাররা পূর্ববঙ্গের সম্পদ লুট করে কলকাতায় সেকেন্ড হোম তৈরি করে। এই লুণ্ঠক জমিদারি ব্যবস্থা উচ্ছেদের প্রয়োজনেই পূর্ববঙ্গের হিন্দু মুসলমান আদিবাসী সমাজ নির্বিশেষে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হয়। কিন্তু একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে পাকিস্তান আমলে। পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ লুট করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যেতে থাকে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শক্তি। পূর্ব পাকিস্তানের শক্তির জায়গা ছিল এর বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ। যে কারণে পাকিস্তানে সিন্ধি, বালুচি, পাঞ্জাবি, পশতু-ভাষীদের ওপর উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া গেলেও পূর্ব পাকিস্তানে বাংলাভাষীদের ওপরে চাপিয়ে দিতে পারেনি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী। ভাষা আন্দোলনে পূর্ব পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবী শ্রেণির সক্রিয়তা যে সাংস্কৃতিক আন্দোলন সূচিত কওে, তারই অস্থিধারণ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন বিকশিত হয়। ভাষা আন্দোলনকে বাঙালির নবজাগরণকাল বললে ভুল হবে না। শিক্ষা-সংস্কৃতি-সাহিত্য-সাংবাদিকতা-চলচ্চিত্র প্রতিটি ক্ষেত্রে উৎকর্ষের অনুসন্ধান করতে শুরু করে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবিতা। কোনো জাতির বুদ্ধিবৃত্তির জায়গাটা বিকশিত হলে তাকে শাসন-শোষণ করা কঠিন হয়।
বিস্তারিত পড়ুন এখানে
ভিউজীবিতার গ্রাসে বুদ্ধিজীবিতা— শিমুল সালাহ্উদ্দিন
বাংলা ভাষায় আমরা বিদ্যা ও বুদ্ধিকে যুক্ত করে ‘বিদ্যাবুদ্ধি’ বলি। বুদ্ধিজীবীরা বুদ্ধিজীবী হন নিজেদের ওই বিদ্যাবুদ্ধির জোরেই- তাদের বিদ্যা থাকে, থাকতেই হবে, নইলে বুদ্ধিজীবী কীভাবে? বিদ্যা হলো অধ্যয়ন বা শিক্ষার মাধ্যমে লব্ধজ্ঞান, যা পুস্তকপাঠ থেকে আসে, আড্ডা থেকে আসে, জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আসে। বিদ্যারই অপর নাম জ্ঞান। কিন্তু শুধু বিদ্যাই কি মানুষকে বুদ্ধিজীবী করে? তা নয়। বিদ্বান মাত্রই বুদ্ধিজীবী হন না, যদিও বুদ্ধিজীবী হলে বিদ্বান হতেই হয়। বিদ্বানরা পণ্ডিত হন, দক্ষ হন, পেশাজীবী হন, বিশেষজ্ঞও হয়ে থাকেন; কিন্তু এসব হওয়া আর বুদ্ধিজীবী হওয়া এক ব্যাপার নয়।
বিস্তারিত পড়ুন এখানে