প্রস্তুতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ড একাদশকে হারিয়ে দিল বাংলাদেশ

মূল লড়াই শুরুর আগে গা গরমের ম্যাচ। এখানে জয়-পরাজয় এতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিবেচনায় নেওয়া হয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স। তবে প্রতিপক্ষের মাঠে যেকোনো জয়ই তো স্বস্তির। বাংলাদেশের জন্যও তাই। সিরিজ শুরুর আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে যে তারা হারিয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড একাদশকে।

লিঙ্কনে আজ নিউজিল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ২৬ রানে। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৩৪ রানের পুঁজি গড়ে প্রতিপক্ষকে তারা থামিয়ে দিয়েছে ৩০৮ রানে।

আগামী ১৭ তারিখ শুরু তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। কিউইদের সঙ্গে মূল লড়াইয়ে নামার আগে এই জয় সফরকারীদের দেবে বাড়তি আত্মবিশ্বাস।

ব্যাট ও বল হাতে প্রস্তুতিটা ভালোই হয়েছে রিশাদ হোসেনের। ৮৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। ৪ ছক্কা ও ১১ চারে সাজানো তার ৫৪ বলের ইনিংস। পরে লেগ স্পিনে ৫২ রানে ৩ উইকেট নেন রিশাদ।

রিশাদ ছাড়াও ব্যাট হাতে আলো ছড়ান তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকার ও লিটন দাস। ৪ ছক্কা ও ৫ চারে ৪৬ বলে ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তরুণ ওপেনার তানজিদ। তিনে নেমে ১ ছক্কা ও ৮ চারে ৫৬ বলে ৫৯ রান করেন সৌম্য। ১ ছক্কা ও ৫ চারে ৬৩ বলে ৫৫ রান আসে চারে নামা লিটনের ব্যাট থেকে।

রান তাড়ায় নিউজিল্যান্ড একাদশকে শুরুতে চেপে ধরে বাংলাদেশ। ৮০ রানে তুলে নেয় প্রতিপক্ষের ৪ উইকেট। তবে ভেঙে পড়েনি নিউজিল্যান্ড একাদশ। পরে ভালোই জবাব দেয় তারা। চাপ সামলে ঘুরে দাঁড়ায়।

তাদের কক্ষপথে ফেরান এই ম্যাচের অধিনায়ক ভারত পপলি ও সন্দিপ প্যাটেল। দুইজনে গড়েন ১৫৬ রানের জুটি। পপলিকে বোল্ড করে তাদের প্রতিরোধ ভাঙেন আফিফ হোসেন। ১৩ চারে ৯০ বলে ৯২ রান করেন পপলি।

কয়েক ওভার পর আরেক থিতু ব্যাটসম্যান সন্দিপকেও ফিরিয়ে দেন আফিফ। ২ ছক্কা ও ১১ চারে ৭৭ বলে ৮৯ রান করেন সন্দিপ। অফ স্পিনে ২৬ রান দিয়ে আফিফের শিকার ৩ উইকেট। শেষ তিন উইকেট তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ড একাদশকে গুঁড়িয়ে দেন রিশাদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৪৯.৫ ওভারে ৩৩৪ (এনামুল ৩৩, তানজিদ ৫৮, সৌম্য ৫৯, লিটন ৫৫, হৃদয় ০, আফিফ ১০, রিশাদ ৮৭, তানজিম ৩, রকিবুল ২, আব্দুল হাসান ৮, মুস্তাফিজ ১*; হার্টশর্ন ৭.৫-০-৫৭-২, ফিল্ড ৯-০-৬২-২, নিকিথ ১০-১-৫৫-১, ভুলা ৩-০-১৯-০, ম্যাককয় ১০-০-৬১-১, সামরাথ ১০-০-৭৩-৪)

নিউজিল্যান্ড একাদশ: ৪৯.২ ওভারে ৩০৮ (কামিং ২২, ভুলা ৮, পপলি ৯২, সুন্দে ২৩, টড ১, সন্দিপ ৮৯, পোমার ৪, নিকিথ ১০, ফিল্ড ৩৩*, সামরাথ ১০, হার্টশর্ন ৩; আব্দুল হাসান ৬-০-৩৬-২, মুস্তাফিজ ৬-০-৩৬-০, সৌম্য ৪-০-২৫-০, তানজিদ ৮-১-৪৮-১, রকিবুল ১০-০-৬১-১, আফিফ ৬-০-২৬-৩, রিশাদ ৭.২-০-৫২-৩, মুশফিক ২-০-২০-০)

ফল: বাংলাদেশ ২৬ রানে জয়ী