বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও মোবাইলে আর্থিক সেবা বা এমএফএস ব্যবহার প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুতগতিতে বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে দেশে মোবাইল ফোনে এক লাখ ২০ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। একক মাসের হিসাবে এই লেনদেন তৃতীয় সর্বোচ্চ। অক্টোবরে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ১৯ কোটি টাকা।
আগের মাস সেপ্টেম্বর মাসে মোবাইল ফোনে এক লাখ ৮ হাজার ৩৭৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা। আগস্টে লেনদেনের অঙ্ক ছিল এক লাখ ৯ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা।
অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত জুন মাসে মোবাইলের মাধ্যমে ১ লাখ ৩২ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দৈনিক গড় লেনদেনের অঙ্ক ৪ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা।
বৈশ্বিক সংস্থা জিএসএমএর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দিনে ৩০০ কোটি ডলারের লেনদেন হলেও গত বছর সেটি বেড়ে ৩৪৫ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। জিএসএমএ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠী, বিশেষত নারীদের আর্থিক খাতে অন্তর্ভুক্তির জন্য মোবাইলে আর্থিক সেবা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের মধ্যে পরিবর্তন আনা ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও অবদান রাখতে পারে। বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে জিএসএমএ প্রতি বছর এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
বাংলাদেশেও গত এক দশকে এমএফএস জনপ্রিয় হয়েছে। অক্টোবর মাসে এমএফএসে সব মিলিয়ে গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ২১ কোটি ৭৭ লাখ ১০ হাজার ৮৩০। তবে সক্রিয় গ্রাহক আট কোটির কিছু বেশি। সেপ্টেম্বর মাসে গ্রাহক সংখ্যা ছিল ২১ কোটি ৫০ লাখ ৪১ হাজার ৭৪৬। আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ২১ কোটি ২৪ লাখ ২০ হাজার ৪৭৬।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, গত জানুয়ারিতে এমএফএসের মাধ্যমে লেনদেন হয় ১ লাখ ৫৯৩ কোটি টাকা। ২০২২ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরে লেনদেনের অঙ্ক ছিল ৯৬ হাজার ১৩২ কোটি টাকা।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে মোবাইলে লেনদেন হয়েছিল ৩২ হাজার ১১৬ কোটি টাকা। প্রতিদিনের গড় লেনদেন ছিল ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, পাঁচ বছরের ব্যবধানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন বেড়েছে প্রায় চার গুণ।
লেনদেনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গ্রাহক সংখ্যা। পাঁচ বছর আগে মোট গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৭৬ লাখ ৭০ হাজার ৪৬৮। অক্টোবরে সেই গ্রাহক প্রায় তিন গুণ বেড়ে প্রায় ২২ কোটি ছুঁয়েছে।