২৪ ঘণ্টায় বিএনপির ৮০ জনের অধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার:  রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ অভিযোগ করে বলেছেন, প্রাপ্ত তথ্যনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে বিএনপির ৮০ জনের অধীক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া মামলা হয়েছে ৪টি, আসামি করা হয়েছে ৪৩৬ জনের অধিক নেতাকর্মী (এজাহার নামীয়সহ অজ্ঞাত), আহত হয়েছেন ১০ জনের অধীক নেতাকর্মী এবং মৃত্যু হয়েছে একজনের।

শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।   

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রকৃত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করছে না। অথচ পার্শবর্তী দেশের নির্দেশনায় তারা জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার প্রাণান্তকর চেষ্টায় মরিয়া হয়ে পড়েছে।

রিজভী বলেন, ভারতকে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এখন জোড়াতালির ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পাশ্ববর্তী একটি দেশের পরিকল্পনায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করার চেষ্টা করছে। এভাবে গণতান্ত্রিক বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশ্ববর্তী দেশের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এর আগে বিগত দুইটি নির্বাচনের প্রাক্কালে জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করার পরিকল্পনা করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ, এদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু উগ্র নয়। বাংলাদেশের অসংখ্য ছেলেমেয়ে ইসলাম ধর্মের শিক্ষা গ্রহণের জন্য কওমী, আলীয়া, সুন্নী মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। এই পর্যন্ত এসব মাদ্রাসায় কোনো ধরণের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি। অথচ আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রলীগ বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলো চর দখলের মতো দখল করে রেখেছে। তারা ভারতবিরোধী লেখার জন্য বুয়েটের ছাত্র আবরারকে হত্যা করেছে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপর বার আর হামলা করেছে। 

সর্বশেষ ছাত্র ইউনিয়নের নেতাদেরও পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। এভাবে ছাত্রলীগ-যুবলীগের আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সমগ্র দেশের আপামর জনসাধারণকে জিম্মি করে রেখেছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী প্রকৃত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করছে না।’

গণতান্ত্রিক বিশ্বের কাছে আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, আপনারা শেখ হাসিনা ও তার প্রভুদের প্রপাগান্ডাকে বিশ্বাস না করে আওয়ামী লীগের একতরফা সাজানো ডামি নির্বাচন নিয়ে সোচ্চার হোন। এদেশের জনগণের একান্ত চাওয়া গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসুন।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালে বিনা ভোটে অটোপাস এবং ২০১৮ সালে মধ্যরাতে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় আসলেও এবার আর কোন রাখ-ঢাক নেই তাদের। লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে প্রকাশ্যে আসন বাটোয়ারা করে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। গোটা দেশ গোল্লায় যাচ্ছে সেদিকে নূন্যতম ভ্রুক্ষেপ নেই। অথচ একদল উচ্চ শিক্ষিত তথাকথিত আত্মা ও ব্যাক্তিত্ব বিক্রি করা বুদ্ধিজীবী ব্যস্ত আছেন নির্বাচনে নৌকা জিতবে কত আসনে সেই হিসাব নিয়ে। প্রশাসন ব্যস্ত কীভাবে নির্বাচন করলে জনগণ বুঝতে পারবে না যে এটা পাতানো নির্বাচন হচ্ছে সেই কৌশল নিয়ে। মাফিয়া চক্রের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ব্যস্ত শেখ হাসিনার হাতে জিম্মী জনগণের এই মহাবিপদের সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কীভাবে বাড়ানো যায় সেই কৌশল নিয়ে। আর জনগন লড়াই করছে জীবন বাঁচানোর যুদ্ধে।

বিএনপিসহ সকল দল মত নির্বিশেষে সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থের বিনিময়ে খরিদ করা ‘কুইন্স পার্টি’, ভূঁইফোড় পার্টি-তৃণভোজী পার্টি-ডামি পার্টি-খুঁদকুঁড়ো পার্টি এবং বিভিন্ন দল থেকে অচ্ছুত লোকজন হায়ার করে নিয়ে কথিত নির্বাচনী নাটক মঞ্চস্থ করার তামাশায় কেউ কোনো প্রক্রিয়ায় অংশ নিবেন না। ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। ভোট দিবেন না। বিএনপি বা অঙ্গসংঠনের কোনো পর্যায়ের কোনো নেতা কর্মী যদি এই ভূয়া নির্বাচন এবং কোন প্রার্থীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, প্রচার প্রচারণায় প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ অংশগ্রহণ-সমর্থন বা ভোট প্রদান কেন্দ্রীক কর্মকাণ্ডে নূন্যতম সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় তবে তার বিরুদ্ধে কঠোরতর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।