গণতন্ত্র বাঁচাতে নির্বাচন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবুদ্দিন খোকন বলেছেন, ‘আগামী ৭ জানুয়ারি ফেলানীর মৃত্যুদিবস, এ দিবসকে সামনে রেখে কোনো আওয়ামী নির্বাচন নয়। সেদিন আওয়ামী লীগের মরণযাত্রার চূড়ান্ত পতন হবে ইনশাআল্লাহ।’
শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সময় চলে এসেছে আওয়ামী লীগের বন্ধুরা চলে যেতে হবে। এটি বিএনপির নয়, জনগণের আন্দোলন। আমরা যে নিরপেক্ষ সরকার চাচ্ছি সেটা দিতে আপনাদের সমস্যা কী। সমস্যা হচ্ছে জনসমর্থনের দিক থেকে আওয়ামী লীগ দেউলিয়া হয়ে গেছে। কদিন আগেই ঢাকা-১৭ ও চট্টগ্রাম ইলেকশন হয়েছে। সেখানে কি কেউ বাধা দিয়েছে। মানুষ ভোট বর্জন করেছে। সেখানে মাত্র কয়েক শতাংশ ভোট পড়েছে।
খোকন বলেন, ‘আগের মতো ভোট আওয়ামী লীগের নেই। যে কারণে জনসমর্থনের ভয়ে সরকারি সম্পদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে তারা। তবে আমাদের আন্দোলন চলবে, নির্বাচন নিয়ে জনগণের কোনো উৎসাহ নাই। আমি মনে করি নির্বাচন হবে না, আর হলেও আপনারা থাকতে পারবেন না। কারণ জনগণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো স্বৈরশাসক থাকতে পারে নাই’
সভায় দেওয়া বক্তব্যে গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ফারুক হাসান বলেন, ‘৭ জানুয়ারি একটি ঐতিহাসিক দিন, যেদিন সীমান্তের কাঁটাতারে ভারতীয় বাহিনী কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঝুলেছিল কিশোরী ফেলানীর মরদেহ। ফেলানী হত্যার যুগপূর্তির দিনে বাংলাদেশে নির্বাচনের নামে যে আওয়ামী মহড়া হচ্ছে তা কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচন নয়। এটি শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের হাতকে আরও বেশি রক্তাক্ত করার আয়োজন। এ নির্বাচন বাংলাদেশের মাটিতে ভারতীয় আধিপত্যবাদী নীলনকশার নির্বাচন।’
গণ অধিকার পরিষদের একাংশের যুগ্ম আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) মিয়া মশিউজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ, সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী
অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ, ১২ দলীয় জোটের প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, স্বতন্ত্র প্রার্থী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আবদুর রহীম, গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুব হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, তারেক রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এস ফাহিম, আরিফ বিল্লাহ, ফার্মাসিস্ট মোজাম্মেল মিয়াজী, ছাত্র অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব মুনতাসির মাহমুদ প্রমুখ।