কোনো দোকান নেই, নেই কোনো পন্য সাজানোর স্থান। তবুও সেই হাটে নিয়ম করে সপ্তাহে দুইদিন চলছে লাখো মানুষের পন্য বেচা-কেনা। উদ্যোক্তা তৈরির কারখানা- “নিজের বলার মতো একটা গল্প” ফাউন্ডেশন এই অনলাইন হাট চালু করেছে যেখানে এ পর্যন্ত অন্তত ২৫ কোটি টাকার বেচা-কেনা হয়েছে।
করোনা মহামারির সময় যখন মানুষের আয় রোজগার কমে যায় তখন "আমরাই ক্রেতা আমরাই বিক্রেতা” স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু হয় এই হাটের। গত পৌনে তিন বছরে ২৬০টি হাট অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি মঙ্গলবার ও শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৯ টা টানা ১২ ঘণ্টা চলা এই হাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা নানারকম খাবার, পোশাক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রি করেন।
“নিজের বলার মতো একটি গল্প” ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান অপ্টিমেক্স কমিউনিকেশান লিমিটেডের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল বাহার জাহিদ। যিনি উদ্যোক্তা তৈরি করতে এক নাগাড়ে ২১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বহুমুখী দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। চলমান এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সে এখন পর্যন্ত দেশ-বিদেশের সাড়ে ৭ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। এরমধ্যে উদ্যোক্তা হয়ে ব্যবসার মাধ্যমে ভাগ্য বদল করেছেন অন্তত ১ লাখ মানুষ। যাদের কারণে অন্তত ৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। অন্যরাও ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি ইতিবাচক পথের দেখা পেয়েছেন।
জানতে চাইলে ইকবাল বাহার জাহিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশে অনলাইন হাটের প্রচলন আমরাই প্রথম শুরু করেছি। এখানে আমাদের যেসব উদ্যোক্তা রয়েছে তারা তাদের পণ্য বিক্রি করেন। এই পণ্য বিক্রির জন্য দোকান বরাদ্দ কিংবা মার্কেটিংয়ের জন্য কোন খরচ হয় না। এমনকি কাউকে কোনো ধরনের কমিশনও দেওয়া লাগে না। ঘরে বসেই পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রথম ব্যাচ থেকে চলমান ২৪ তম ব্যাচ পর্যন্ত সবাই আমাদের সঙ্গে এখনও যুক্ত আছেন। কেন? কারণ হলো-প্রত্যেক নতুন ব্যাচের প্রায় ২৫ হাজার মানুষের সঙ্গে নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কেনাবেচার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিনিয়োগ পাওয়া কিংবা একসঙ্গে ব্যবসা করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আমি একটা এনগেজমেন্ট তৈরি করে রাখছি যাতে করে সবাই উপকৃত হন। আমাদের অনেক উদ্যোক্তা আছে যাদের ৮০ শতাংশ বিক্রি হয় আমাদের এই প্লাটফরম থেকে। গড়ে ৬০ শতাংশেরও বেশি।
অনলাইনে নানারকম প্রতারণার খবর শোনা যায়-এখানে কী সে ধরনের কোন ঘটনা ঘটে? জবাবে ইকবাল বাহার বলেন, “ শুরুর দিকে ২-৪টা এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও এখন এটা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। কারণ, আমাদের বড় শক্তি হলো-বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় এবং ৪৯২টি জেলায় আমাদের টিম রয়েছে। আমাদের প্রায় ৪২০০ স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। যারা সবাই বিনামূল্যে পরিশ্রম করছেন। আমরা একটা ইকোসিস্টেম করে দিয়েছি। এতে সবাই সবাইকে চেনে। নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছি। কোথাও কোথাও কোনো সমস্যা হলে তারা কাউন্সিলিং করে সেগুলোর সমাধান করতে পারে। তাছাড়া এখানে কারো বিরুদ্ধে একবার কোন অভিযোগ উঠলে পরবর্তীতে সে তার বিক্রি হারাবে। এই ভয়ে কেউ প্রতারণা করতে পারে না।
ফাউন্ডেশনের নিজস্ব একটি ফেসবুক পেইজ রয়েছে যার ফলোয়ার (দর্শক) রয়েছেন প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার। এখানকার ফলোয়াররা এই হাটে পণ্য কিনতে পারলেও সবাই পণ্য বিক্রি করতে পারেন না। নিজের বলার মতো একটি গল্প ফাউন্ডেশনের টানা ৯০ দিনের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণে যারা অংশ নিয়েছেন শুধু তারাই এখানে পণ্য বিক্রি করতে পারেন। এছাড়া চলমান কোনো ব্যাচে ৬০ দিন ক্লাস করার পরও কেউ চাইলে এই হাটে পণ্য বিক্রি করার সুযোগ পেয়ে থাকেন। এছাড়া বাজারে শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে পণ্য বিক্রিরও ক্ষেত্রেও কিছু বিধি নিষেধ দেওয়া আছে। সেগুলো মেনেই একজন উদ্যোক্তা তার পণ্যের পোষ্ট দিতে পারেন। কেউ নিয়ম না মানলে তার পন্যের পোষ্ট অনুমোদন দেওয়া হয় না।