গৌরবময় বিজয়ের ৫২ বছর উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে ৫২ ফুট ক্যানভাসে শিশুরা রঙ তুলিতে আঁকলো স্মার্ট বাংলাদেশ। এদিন সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান লাকী ইনামের সভাপতিত্বে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
বিজয় দিবসের আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক। এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন বীরমুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী আবুল বারাক আলভী এবং অভিনেতা আফজাল হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আনজীর লিটন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, জাতির পিতার নেতৃত্বে ১৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৬ ডিসেম্বর হাজার বছরের পরাধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে বিজয়ের আনন্দে মেতে উঠার দিন।
প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা বলেন, আগামী প্রজন্ম জাতির পিতার আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে বেড়ে উঠবে। এই শিশুরা বঙ্গবন্ধু কন্যা ঘোষিত ২০৪১ সালের উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট দেশের সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। যতদিন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী থাকবে, ততদিন নারী-শিশু উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। যতদিন শেখ হাসিনার হাতে দেশ, পথ হারাবে না নারীরা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরেণ্য অভিনেতা আফজাল হোসেন বলেন, শিশুরা বেড়ে ওঠার সময় তাদের নানান ধরনের সৃজনশীল কাজের সাথে যুক্ত করা উচিত। শিশুরা গান গাইবে, ছবি আঁকবে, নাচবে, অভিনয় করবে। সৃজনশীল বিভিন্ন ক্ষেত্রে যদি তাদের জড়িয়ে ফেলা যায়, তাহলে একটা বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে, এই শিশুদের দ্বারা দেশের অনিষ্ট কখনো হবেনা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আনজীর লিটন। তিনি বলেন, আজ আমাদের শিশু একাডেমির কোল ঘেঁষে একটু পর পর মেট্রোরেল যাচ্ছে। এই তো বিজয় আমাদের। পদ্মার বুক চিড়ে পদ্মাসেতু হয়েছে এই তো বিজয় আমাদের। আজ কর্ণফুলী নদীর ভেতর দিয়ে টানেল হয়েছে। এই তো বিজয়। এই স্থাপনা আমাদের, এই মেট্রোরেল, পদ্মাসেতু, বঙ্গবন্ধু টানেল আমাদের।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিবুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. কেয়া খান, জাতীয় মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবেদা আক্তার ও দপ্তর সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। আলোচনা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনা করে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির শিশু শিল্পীরা।