নারায়ণগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সালাউদ্দিন খোকা মোল্লা রয়েছেন। রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা ইসতাফিজুল আকন্দ।
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর জেলার পাঁচটি নির্বাচনী আসনে ৩৮ জনের মনোয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে জেলার পাঁচটি আসনে মোট ৩৩ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
এদিন জেলার সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল— নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এমপি শামীম ওসমানের আসন থেকে জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব সালাইউদ্দিন খোকা মোল্লার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়া। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁও-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী কায়সার হাসনাতের বিপরীতে মনোয়নপত্র প্রত্যাহার করেন আওয়ামী লীগের দুই স্বতন্ত্র প্রাথী।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের লিখিত আবেদনে সালাউদ্দিন খোকা মোল্লা উল্লেখ করেন, বর্তমানে আমি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণে নির্বাচন করতে প্রস্তুত নই বিধায় আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন জানাচ্ছি। দল তাকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বলেনি, ব্যক্তিগত কারণেই আবেদন জমা দিয়েছেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন থেকে ৯ জনের মনোয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হয়েছিল। এ আসন থেকে কেউ মনোয়নপত্র প্রত্যাহার করেনি। এ আসনে প্রার্থীরা হলেন— মো. জোবায়ের আলম (স্বতন্ত্র), গোলাম দস্তগীর গাজী (আওয়ামী লীগ), তৈমুর আলম খন্দকার (তৃণমূল বিএনপি), শাহাজাহান ভূঁইয়া (স্বতন্ত্র), গাজী গোলাম মর্তুজা (স্বতন্ত্র), মো. হাবিবুর রহমান (স্বতন্ত্র), মো. সাইফুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), মো. জয়নাল আবেদীন চৌধুরী (স্বতন্ত্র) ও এ কে এম শহিদুল ইসলাম (ইসলামি ফ্রন্ট বাংলাদেশ)।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে চারজনের মনোয়নপত্র বৈধ হয়। এ আসন থেকে কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেনি। এখানে প্রার্থীরা হলেন— শাহজাহান (জাকের পার্টি), সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু (আওয়ামী লীগ), মো. আবু হানিফ হৃদয় (তৃণমূল বিএনপি) ও আলমগীর সিকদার লোটন (জাতীয় পার্টি)।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে ১১ জন প্রার্থী ছিলেন। প্রত্যাহার করেছেন মারুফ ইসলাম ঝলক (আওয়ামী লীগ স্বতন্ত্র), এরফান হোসেন দীপ (আওয়ামী লীগ স্বতন্ত্র) ও রুবিয়া সুলতানা (স্বতন্ত্র)। এ আসনে বর্তমান প্রার্থীরা হলেন— আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত (আওয়ামী লীগ), সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা (জাতীয় পার্টি), নারায়ণ দাস (বিকল্প ধারা বাংলাদেশ), মো. মজিবুর রহমান (বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন), আসলাম হোসেন (বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি), এবিএস ওয়ালিউর রহমান খান (বিএনএম), এ এইচ এম মাসুদ (স্বতন্ত্র) ও মো. আরিফ (মুক্তি জোট)।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ১০ জন প্রার্থীর ছিলেন। এর মধ্যে মনোয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন সালাউদ্দিন খোকা মোল্লা (জাতীয় পার্টি)। ফলে প্রার্থী রইলেন ৯ জন। এরা হলেন— মো. মূরাদ হোসেন জামাল (জাকের পার্টি), সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান (আওয়ামী লীগ), মো. রাশেদুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), মো. আলি হোসেন (তৃণমূল বিএনপি), মো. সেলিম প্রধান (বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি), মো. হাবিবুর রহমান (ইসলামি ফ্রন্ট বাংলাদেশ), শহীদ উন নবী (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি), গোলাম মোর্শেদ রনি (বাংলাদেশ কংগ্রেস) ও মো. ছৈয়দ হোসেন (জাসদ)।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে পাঁচজন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে মোর্শেদ হাসান (জাকের পার্টি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এ আসনে প্রার্থী রইলেন চারজন। এরা হলেন— সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমান (জাতীয় পার্টি), মো. আব্দুল হামিদ ভাসানী (তৃণমূল বিএনপি), এ এস এম একরামুল হক (ইসলামি ফ্রন্ট বাংলাদেশ) ও ছামসুল ইসলাম (বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি)।