মেয়াদোত্তীর্ণ সিবিএ খর্ব শ্রম অধিকার

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) পেশাভিত্তিক দুটি ইউনিয়নে নিয়মিত দ্বিবার্ষিক নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি গত চার ও ছয় বছরেও। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে ইউনিয়নের কার্যক্রম। আর এতে করে খর্ব হচ্ছে শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার। সুরক্ষাও টানাপড়েনে, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ সদস্যরা।

দুটি ইউনিয়নের মধ্যে ২০১৫ সালে সর্বশেষ খুলনা সিটি করপোরেশন কর্মচারী ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে উজ্জ্বল কুমার সাহা সভাপতি ও শেখ মহিউদ্দিন হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালের ২০ ডিসেম্বর শপথ নেওয়া এ কমিটি ২০১৭ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। অথচ মেয়াদোত্তীর্ণের ছয় বছরেও আর কোনো নির্বাচন হয়নি, হয়নি নতুন কোনো কমিটিও। অন্যদিকে পুরনো কমিটির কার্যক্রমও দৃশ্যমান নয়।

এ প্রসঙ্গে খুলনা সিটি করপোরেশন কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার সাহা ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিউদ্দিন হোসেন বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কর্মচারী ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন হয়। নির্বাচনে নতুন কমিটি আসে। কমিটির কাজ কর্মচারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করা। বিশেষ করে কর্মচারীদের দাবি আদায়ে কাজ করা। এ ছাড়া অসুস্থ কর্মচারীদের আর্থিক সহায়তা, বার্ষিক বনভোজন ও বিদায় সংবর্ধনার আয়োজনও করে। তবে নানা কারণে নির্বাচন হয়নি। করপোরেশনের মেয়র চাইলেই নির্বাচন হবে। তারা আরও বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন মাস চাঁদা দেওয়া না হলে সদস্যপদ থাকে না। কিন্তু ইউনিয়নে দীর্ঘ সময় চাঁদা গ্রহণও বন্ধ রয়েছে। সে অনুযায়ী কারও সদস্যপদ নেই। ইউনিয়নের কার্যক্রমও নেই।

তবে সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ ইউনিয়ন কল্যাণ তহবিল পরিচালনা করেন। ২০১৯ সালে কল্যাণ তহবিলের ৪১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এরপর থেকে কর্মচারী ইউনিয়নের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ। সদস্যরা কেউই টাকা ফেরত পায়নি। এখন কর্মচারী ইউনিয়ন ও কল্যাণ তহবিল দুটোই অচল।

অন্যদিকে ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট খুলনা সিটি করপোরেশনের এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে সোবহান আলী সভাপতি ও দুলাল হোসেন রাজা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দ্বিবার্ষিক এ নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হয় ২০১৯ সালের ১৭ আগস্ট। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও চার বছরে নতুন কমিটি গঠনে আর নির্বাচন হয়নি। বর্তমান কমিটিই খেয়াল-খুশিমতো কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ, এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের কল্যাণ সমিতির তহবিলের ১৮ লাখ টাকা তছরুপ হয়েছে। এই কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ কল্যাণ তহবিল পরিচালনা করেন। সেই টাকা সদস্যরা ফেরত পাচ্ছে না। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ তারা।

এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন কল্যাণ সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মো. আয়নাল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইউনিয়ন চাঙ্গা নেই। শ্রমিকরা নানা হয়রানির শিকার হচ্ছে। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নেতারা তাদের দাবি আদায় বা সমস্যা সমাধানে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না।’

নির্বাচন না হওয়ার কারণ সম্পর্কে এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোবহান আলী বলেন, ‘করপোরেশনের প্রধান মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক। তিনি জয়ী হয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছিলেন। সুতরাং তিনি জাতীয় নির্বাচনের পর নির্বাচন দেবেন বলে আশা করছি।’

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে খুলনা বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন ইউনিয়নগুলোর নিজস্ব ব্যাপার। তাদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য বলা হচ্ছে। তারা করে না। যারা নির্বাচন চায়, তারা আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর এ বিষয়ে কথা হবে। এর আগে এসব বিষয়ে কোনো কথা বলা যাবে না।’