শিক্ষক সমিতির বাধায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে না হয়ে ভিসির বাংলোতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার এই নিয়োগ বোর্ড ছিল। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষক প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও উপাচার্য নিজের ক্ষমতার বলে ওই শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। এ কারণে গতকাল সমিতির পক্ষ থেকে নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবিতে অবস্থান নিলে এ ঘটনা ঘটে।
গতকাল দুপুর ১২টায় উপাচার্যের কক্ষে আইন ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড (নিয়োগ বোর্ড) বাতিলের দাবিতে উপাচার্যকে চিঠি দেয় চবি শিক্ষক সমিতি। পরে উপাচার্য সময় চেয়ে শেষ পর্যন্ত আর দেখা করেননি শিক্ষক সমিতির নেতাদের সঙ্গে। পরে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় উপাচার্য ও শিক্ষক সমিতির নেতাদের মধ্যে বাগ্বিত-া হয়। একপর্যায়ে উপাচার্য কক্ষ ছেড়ে কনফারেন্স রুমে চলে যান। উপাচার্যের সঙ্গে কোনো আলোচনা না হওয়ায় বেলা ২টায় নির্বাচন বোর্ড বাতিলের দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ের অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করে শিক্ষক সমিতি। পরে চবি উপাচার্যের কার্যালয়ে নিয়োগ বোর্ড বসেনি। একপর্যায়ে শিক্ষক সমিতি ও সাধারণ শিক্ষকদের তোপের মুখে সবার অন্তরালে নিজ কার্যালয় ছেড়ে গোপনে বেরিয়ে যান চবি উপাচার্য ও নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা। গোপন স্থানে (উপাচার্যের বাংলো) নিয়োগ বোর্ড আয়োজনে এই সময় শিক্ষক প্রার্থীসহ নিয়োগ বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক নির্মল কুমার সাহা গাড়িতে করে বেরিয়ে যান।
উদ্ভূত এমন পরিস্থিতিতে চবি শিক্ষক সমিতি সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। চবি উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও নৈতিকতা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন বলে মন্তব্য করেন চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী। তাই উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে’র পদত্যাগ করতে হবে বলে তিনি দাবি করেন।
শিক্ষক নিয়োগের বোর্ড আয়োজনে উপাচার্যের এমন কর্মকা-কে লুকোচুরি আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই প্রশাসন চরম দুর্নীতিগ্রস্ত। তারা অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের আয়োজন করেছেন। তাছাড়া আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটিকে পাস কাটিয়ে উপাচার্য নিজে আর্থিক লাভবান হওয়ার আশায় এমন অবৈধ বোর্ডের আয়োজন করেছেন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকরা এই উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ চাই।
চবি উপাচার্যের পদত্যাগ সম্পর্কে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন পরিস্থিতিতে আমরা সাধারণ শিক্ষকদের একটাই দাবি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে হবে। তাদের পদত্যাগের দাবিতে আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করব।