জ্ঞানবাপী মসজিদ মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্টে ধাক্কা খেল মসজিদ কমিটি। মসজিদ প্রাঙ্গনে হিন্দু মন্দির রয়েছে বলে দাবি করে হিন্দু পক্ষ যে আবেদন করেছিল, তা খারিজ করতে পাল্টা আবেদন করেছিল মসজিদ কমিটি, তাদের সেই আবেদনই খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। আজ মঙ্গবার বিচারপতি রোহিত রঞ্জন আগরওয়ালের একক বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
একইসঙ্গে এই বেঞ্চ আগামী ৬ মাসের মধ্যে বারাণসী আদালতকে এ বিষয়ে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে।
দেওয়ানি মামলায় হিন্দু পক্ষ জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্বরে মন্দির গড়ে তোলার দাবি তুলেছিল। উত্তরপ্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড এবং আঞ্জুমান ইন্তেজামিয়া মসজিদ কমিটি এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মোট পাঁচটি আবেদন করেছিল। যার সবগুলো খারিজ হয়ে গেছে।
জ্ঞানবাপী নিয়ে বিতর্কের কারণ
অযোধ্যার মতই কাশীর বিশ্বনাথ মন্দির এবং জ্ঞানবাপী মসজিদকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। হিন্দু পক্ষের দাবি, ১৬৬৯ সালে মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের একাংশ ভেঙে জ্ঞানবাপী মসজিদ তৈরি করেছিলেন। এরপর থেকে মসজিদ বিতর্কে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। বিতর্ক চরম আকার নেয় গত বছর।
মসজিদের ভিতরে ভিডিওগ্রাফি চলাকালীন শিবলিঙ্গের খোঁজ মেলে বলে দাবি করা হয়। এই সূত্র ধরে মন্দির ভেঙে মসজিদ করা হয়েছে বলে দাবি করে হিন্দু সংগঠনগুলি। বারাণসী জেলা আদালতে মামলা করা হয়, এরপরই বিতর্কিত স্থানটি ঘিরে ফেলা হয়েছিল।
মসজিদ কমিটির আইনজীবী অভয় নাথ বারাণসী জেলা আদালতে জানিয়েছিলেন, ১৯৯১ সালের ধর্মীয় উপাসনাস্থল রক্ষা (বিশেষ ব্যবস্থা) আইন এবং ১৯৯৫ সালের সেন্ট্রাল ওয়াকফ আইন অনুযায়ী, এ সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি হতে পারে না। অন্য দিকে, হিন্দু পক্ষের আইনজীবী বিষ্ণু জৈন এবং হরিশঙ্কর জৈনের দাবি ছিল, ১৯৯১ সালের ওই আইন জ্ঞানবাপীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তিনি জানান, ১৯৪৭ সালের পরেও শৃঙ্গার গৌরীস্থলে পূজার্চনার প্রমাণ রয়েছে। বারাণসী আদালতের বিচারক অজয় কুমার বিশ্বাস মুসলিম পক্ষের যুক্তি খারিজ করে দিয়ে বলেছিলেন, ‘১৯৯১ সালের ধর্মীয় উপাসনাস্থল রক্ষা (বিশেষ ব্যবস্থা) আইন অনুযায়ী ধর্মস্থানের চরিত্র বদল করা যায় না। কিন্তু ওই আইনে কোথাও বলা নেই, ধর্মস্থানের প্রকৃত চরিত্র নির্ধারণ করা যাবে না।’
জরিপের নির্দেশ
এরপর বিতর্কিত এই স্থানে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার জন্য আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াকে (এএসআই) নির্দেশ দিয়েছিল বারাণসীর জেলা আদালত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হয়েছিল মসজিদ কমিটি। পরে সেই মামলা ফেরৎ পাঠানো হয় এলাহাবাদ হাইকোর্টে। জরিপ নিয়ে জেলা আদালতের নির্দেশকেই বহাল রাখে উচ্চ আদালত।
গতকাল সোমবার সমীক্ষার রিপোর্ট এএসআইয়ের পক্ষ থেকে সিল করা খামে জেলা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ ডিসেম্বর সমীক্ষার রিপোর্টের কপি দেওয়া হবে দুই পক্ষকে । সেই সঙ্গে রিপোর্টের কপি সুপ্রিম কোর্টে পাঠানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।