সদ্য ওটিটি-তে মুক্তি পেয়েছে অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরীর ‘কড়ক সিং’। ছবিতে পঙ্কজ ত্রিপাঠীর মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ‘দিল বেচারা’ খ্যাত অভিনেত্রী সানজানা সাংঘি। পেয়েছেন প্রশংসাও।
ছবির প্রচারে কলকাতা এসেছিলেন এই নায়িকা, সেখানে কথা বলেন স্পষ্ট বাংলা ভাষায়। এক গাল হেসে বলেন, ‘আমি একটু একটু বাংলা বলতে পারি, সবটা পারি না।’ সাধারণত বলিউড থেকে আসা নায়িকারা ভাঙা বাংলায় ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বলে থাকেন। তাই একটু অন্যরকম বাক্য শুনে সবার কৌতূহল বাংলা কোথা থেকে শিখলেন তিনি? সানজানা বলেন, ‘আমার প্রথম ছবি ‘দিল বেচারা’তে আমার চরিত্রটা বাঙালি ছিল। সে সময় একদম আনকোরা নতুন ছিলাম। আমার বুদ্ধি আমায় বলেছিল, বাঙালি চরিত্র পেয়েছ যখন, ভাষাটা শিখে ফেলো। সাধারণত অভিনেতারা শুধু নিজেদের সংলাপগুলোর উচ্চারণ ঠিক করে শেখার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিজি চরিত্র করার সময় আমি আমার শতভাগ দিয়েছিলাম। মনে হয়, ভালোই করেছিলাম। কারণ, সে সময় বাংলার সঙ্গে যে সম্পর্কটা তৈরি হয়ে গিয়েছিল, তা অতুলনীয়।’
‘কড়ক সিং’ ছবি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হলেও সানজানা তার অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হচ্ছেন। ছবির শুটিংয়ের জন্য ২০২২ সালের অনেকটা সময় কলকাতায় কাটিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, পার্ক স্ট্রিট বা ধর্মতলা চত্বরে শুটিং করার সময় এ শহরের কমবয়সি অনুরাগীদের আন্তরিকতা তাকে অবাক করেছে। অন্য কোনও জায়গায় তিনি এত ভালোবাসা পাননি। সানজানা বলেন, ‘দিল বেচারা’র কাস্টে প্রচুর বাঙালি ছিলেন। শাশ্বতদা আমার সঙ্গে ইচ্ছে করে সব কথা বাংলায় বলতেন। যাতে আমি অভ্যস্ত হয়ে যাই। আসলে যে কোনও ভাষার কথ্য তো আলাদা হয়। শাশ্বতদার সঙ্গে আমার অনেক দৃশ্য ছিল। আমার যাতে অসুবিধা না হয়, তাতে অনেকটাই সাহায্য করেছিলেন শাশ্বতদা।’
২০২০ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘দিল বেচারা’। কিন্তু তার পর থেকে সংখ্যায় খুব বেশি ছবি করেননি সানজানা। কীভাবে ছবি বাছাই করেন তিনি? উত্তরে বলেন, ‘প্রত্যেক অভিনেতার কাজ করার পিছনে আলাদা অনুপ্রেরণা থাকে। কেউ টাকার জন্য কাজ করেন, কেউ খ্যাতির জন্য। আমার ক্ষেত্রে এই দুটোর কোনওটাই নয়। আমি পড়াশোনায় বরাবরই ভালো ছিলাম। সাংবাদিক, আইনজীবী, মার্কেটিংয়ের পেশাদার— যে কোনও ক্যারিয়ার বেছে নিতে পারতাম। কিন্তু অভিনয় করার ঝুঁকি নিয়ে ফেললাম। এর পেছনের কারণটা খুব স্বার্থপর। আমি আমার দর্শকের সঙ্গে একটা মনের যোগ তৈরি করতে চাই। ঠিক সেই কারণেই আমি ‘প্রজেক্ট’ করতে চাই না, ছবি করতে চাই। কোনও কাজ করা ‘উচিত’ বলেই রাজি হয়ে যেতে পারি না। বেশি সংখ্যায় ছবি করা হয়তো খুবই জরুরি। ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়বে, ইনস্টাগ্রামে অনুরাগীর সংখ্যা বাড়বে। কিন্তু আমি এমন একটা ফিল্মোগ্রাফি বানাতে চাই যা দেখে পরে নিজেরই গর্ব হয়।’
১৩ বছর বয়সে রণবীর কাপুরের ‘রকস্টার’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসাবে অভিনয় করেছিলেন সানজানা সাংঘি। তার পর থেকেই অভিনয় করার ইচ্ছে জন্ম নেয় তার মধ্যে। ছোট থেকেই কত্থক নৃত্য করতেন। একবার স্কুলে পারফর্ম করছিলেন তিনি সেখানেই তাকে দেখে মনে ধরেছিল পরিচালক ইমতিয়াজ আলির। ছবিতে অভিনয় করার সময় রণবীর নিজে তার মাকে অনুরোধ করেছিলেন, মেয়েকে অভিনয়ে উৎসাহ দেওয়ার জন্য।
সানজানার অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন তখন থেকেই। ‘রকস্টার’-এর পর প্রচুর বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। অন্য যে কেউ হলে হয়তো স্কুলের পাট চুকিয়ে মুম্বাই চলে যেতেন কিন্তু সানজানা পড়াশোনা শেষ করেন। দিল্লির লেডি শ্রীরাম কলেজ থেকে স্নাতক পড়ে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল্ড মেডেলিস্ট হন তিনি।
‘সে সময় আমি নিজেকে বুঝিয়েছিলাম, পড়াশোনা করলে পরে আমারই লাভ হবে। এখন পর্যন্ত যে পরিচালকের সঙ্গেই কাজ করেছি, প্রত্যেকে আমায় বলেছেন, আমি অনেক পরিণত। দুনিয়া সম্পর্কে আমার জ্ঞান অনেক বেশি। আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রী ছিলাম। কাল যদি আমি একটা রাজনৈতিক পিরিয়ড ড্রামার প্রস্তাব পাই, আমি হয়তো চরিত্রগুলো অনেক বেশি আত্মস্থ করতে পারব।’-যোগ করেন এই অভিনেত্রী।
সানজানা আরও বলেন, ‘আমি যে কোনও বিষয়ে নিজের সেরাটা দিতে চাই। অবশ্যই শীর্ষে পৌঁছাতে চাই কিন্তু কোনও শর্টকাট নিয়ে নয়, পরিশ্রম করে। ছবি সই করার সময় কোনও ফর্মুলা দেখা ঠিক নয়। দর্শক যেভাবে তাপসী পান্নুর ‘পিঙ্ক’ পছন্দ করেছিলেন, তার কিছুটাও যদি ‘কড়ক সিং’-এর ভাগ্যে জোটে, তা হলেই আমি খুশি। তাপসী আমার খুব কাছের বন্ধু। আমার আগের ছবি ‘ধক ধক’-এর অন্যতম প্রযোজক সে। ওর ক্যারিয়ার আমি খুব মন দিয়ে লক্ষ করেছি। ও যেভাবে এগিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। তাই অবশ্যই ওর মতো হতে চাই আমি।’