প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামীকাল বুধবার সিলেট থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দলের নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করবেন। সকালে সিলেট পৌঁছে প্রথমেই তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করবেন। বিকালে সিলেট নগরের চৌহাট্টায় অবস্থিত সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন। এই জনসভার মাধ্যমে শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর ও জনসভাকে সফল করতে গত কয়েকদিন সিলেটে ব্যস্ত সময় পার করেছেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রচার মিছিল, মাইকিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সিলেট নগর ও বিভাগের জেলা-উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফলের আহ্বান জানানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম নির্বাচনী জনসভায় বিপুল লোক সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তারা আশা করছেন আজ সিলেটে জনতার ঢল নামবে। প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভা স্মরণকালের বৃহৎ জনসভায় রূপ নেবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য সিলেটে নিয়োজিত রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলের আশেপাশের এলাকা বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। সড়কের ভাঙাচোরা মেরামত করে সড়ক বিভাজকে নতুন রঙ লাগানো হয়েছে। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নৌকার নকশায় তৈরি করা হয়েছে জনসভামঞ্চ।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জনসভাস্থল পরিদর্শন করে সার্বিক প্রস্তুতি দেখেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নানক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সিলেট উৎসবের নগরে পরিণত হয়েছে। নেতাকর্মীরা আনন্দে উজ্জ্বীবিত। এই জনসভা জনসমুদ্রে রূপ নেবে।’
নানক আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সিলেটের প্রতি খুবই আন্তরিক। সিলেটবাসীও তাকে ভালোবাসেন। সিলেটের কোনো দাবিই প্রধানমন্ত্রী অপূর্ণ রাখবেন না।’
সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, প্রতি বারের মতো এবারও সিলেট থেকেই আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটা সিলেটবাসীর জন্য অনেক গৌরবের বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে সর্বাত্মক সফল করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। সাধারণ মানুষও প্রধানমন্ত্রীর জনসভা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণামূলক প্রথম জনসভায় প্রধানমন্ত্রী কী বলেন তা শুনতে সবাই উদগ্রীব।
আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় বিপুল লোক সমাগম ঘটাতে বিভাগের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ১৯টি নির্বাচনী আসনে দলের প্রার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক প্রার্থী নেতাকর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে জনসভায় যোগ দেবেন। এতে জনসভাস্থলসহ পুরো সিলেটে জনতার ঢল নামবে বলে তারা আশা করছেন। আর এই সমাবেশের মাধ্যমে এবারের নির্বাচনী জোয়ারও উঠবে সিলেট থেকে। জনসভায় অন্তত ১০ লাখ লোক সমাগমের আশা করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রায় ৫ বছর পর আজ সিলেটে জনসভায় ভাষণ দেবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তার ভাষণ শুনতে সিলেটবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।’
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘জাতির জনকের কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার সিলেটের প্রতি আলাদা মমত্ববোধ রয়েছে। সিলেটের উন্নয়নের জন্য তার কাছে কিছু চাইতে হয় না। এখানে উন্নয়নের যে ক্ষেত্রে যেটা প্রয়োজন তাই তিনি দিয়ে যাচ্ছেন। আশা করি আসন্ন নির্বাচনে সিলেটবাসীও এই বিভাগের সবগুলো আসনে শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করে তাঁকে উপহার দিবেন।’
সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী আমাকে দলের প্রার্থী করেছিলেন। সিলেটবাসী আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে শেখ হাসিনার আস্থার প্রতিদান দিয়েছে। একইভাবে আসন্ন সংসদ নির্বাচনেও সিলেটের প্রতিটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে মানুষ ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে বলে আমি আশাবাদী। আজকের জনসভা সফল করে সিলেটবাসী সেই প্রতিশ্রুতিই ব্যক্ত করবে।’