গাজীপুরে দেড় মাস ধরে বন্ধ বিএনপির কার্যালয়

গ্রেপ্তার এড়াতে অন্য জেলায় ভাড়া থাকছেন নেতাকর্মীরা

গাজীপুর জেলা বিএনপির কার্যালয় ৪৮ দিন পরে কয়েক ঘণ্টার জন্য খোলা হলেও ফের বন্ধ রয়েছে। কার্যালয়ে যাচ্ছেন না কোনো নেতাকর্মী। দেড় মাসে সহস্রাধিক বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে শতাধিক। এসব মামলা মাথায় নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অনেকে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করতেও বাড়িতে আসতে পারছেন না। দীর্ঘদিনেরও আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারছেন না তারা। দিনের পর দিন পালিয়ে থেকে অনেক নেতাকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পালিয়ে থাকা নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত শনিবার বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার বেলা ১১টার দিকে কার্যালয়ে এসেছিলেন। সেখানে বিজয় দিবসের একটি আলোচনা সভায় তিনি বক্তব্য দেন। সভায় অল্পসংখ্যক নেতাকর্মী যোগ দেন। জানতে চাইলে উপস্থিত মহানগর বিএনপি নেতা শিক্ষাবিদ ও গাজীপুর বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান বলেন, ‘গাজীপুরে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রায় সব নেতাকর্মীদের নামে মামলা রয়েছে। তাই গ্রেপ্তার এড়াতে কেউ দলীয় কার্যালয়ে আসছেন না।’

পালিয়ে থাকা কাশিমপুর থানা বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছে। দেড় মাস ধরে বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাসায় থেকেছি। এখন আর কোনো আত্মীয়ের বাসা নেই। কতদিন আত্মীয়-স্বজনের বাসায় থাকব?’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই নেতা বলেন, ‘আমিসহ আরও ৮-১০ নেতা পার্শ্ববর্তী একটি জেলায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছি। নতুন নম্বর দিয়ে পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছি। অসুস্থ মা-বাবাকে দেখতে যাই পালিয়ে।’

গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘২৮ অক্টোবরের পর গাজীপুর মহানগরীর আটটি থানায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে প্রায় ২৫টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে। এর মধ্যে দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।’

গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নান বলেন, ‘জেলার পাঁচটি থানায় ৪৫টি মামলা করা হয়েছে। প্রায় ২০০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর আসামি করা হয়েছে পাঁচ শতাধিক।’

এ দুই নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, নেতাকর্মীদের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি করছে পুলিশ। এ অবস্থায় নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে পালিয়ে থেকেও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলনের ফল ঘরে না তুলে ঘরে ফিরবে না।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন থানা এবং জেলা পুলিশের থানার ওসিদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে হয়রানি ও অযথা গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে তাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করছে।