একই আসনে নির্বাচনী খেলায় জামাই-শ্বশুর

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ) আসনে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী রেজাউল ইসলাম ভূঞা। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন রেজাউলের শ্বশুর জিয়াউল হক মৃধা। তাদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে এবারই প্রথম নয় সবশেষ জাতীয় নির্বাচনেও তারা  একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নেমেছিলেন। এই আসনটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতা করে আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিলেও তাদের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে আছেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাপা প্রার্থী রেজাউল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, পারিবারিক সম্পর্ক আর রাজনৈতিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ আলাদা। এ দেশে ভাই ভাইয়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে, স্বামী-স্ত্রী একই আসনে নির্বাচন করে এসব কোনো নতুন ঘটনা নয়। ফলে একে আলাদা করে দেখার কিছু নেই।

ভোটের মাঠে এর প্রভাব পড়বে কী না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কেবল জিয়াউল হক মৃধা নয় আমার আসনে আওয়ামী লীগেরও স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী আরও ৫ জন আছেন ফলে বিদ্রোহী নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। আমি আমার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

জিয়াউল হক মৃধা বলেন, কতজন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে আছেন, কার আত্মীয় কে এসব কোনো বিষয় নয়। মূল ব্যাপার হলো জনগণ কাকে তাদের প্রতিনিধি মনে করে। আমি এই আসনে দু'বারের সংসদ সদস্য। আশাকরি জনগণ আমাকে আরেকবার সুযোগ করে দেবে।

জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে মৃধা রওশন অনুসারী ও রেজাউল জি এম কাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। জাপায় একসময় মৃধা বেশ প্রভাবশালী ছিলেন। কিন্ত অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দিনে দিনে মৃধা কোণঠাসা হয়ে পড়েন আর রেজাউল জি এম কাদেরের স্নেহভাজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।

এ আসনে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ফলে এখানে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী নেই। তবে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ সাতজন প্রার্থী আছেন। এর মধ্যে জাপার প্রার্থী রেজাউল ইসলাম ভূঞা ও তাঁর শ্বশুর স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধার (ঈগল) নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি নজর কাড়ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তাঁরা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।

এই আসনে গত নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন রেজাউল ও মৃধা।  তখন তারা একাধিকবার বিরোধে জড়িয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। ওই নির্বাচনে রেজাউল মহাজোটের প্রার্থী ও মৃধা সিংহ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন। তাদের দ্বন্দ্বে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত উকিল আবদুস সাত্তার বড় জয় পেয়েছিলেন। আবদুস সাত্তারের ছেলেও এই আসনে নির্বাচন করছেন। এবার জামাই শ্বশ্বরের দ্বন্দ্বে এবার ফায়দা নিতে পারেন আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মঈন উদ্দিন। কেননা স্থানীয় রাজনীতিতে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।