কুয়াকাটায় নিষিদ্ধ ট্রলিং বোট নির্মাণের হিড়িক

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে দিন দিন ট্রলিং বোট বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বল্প খরচে অধিক লাভের আসায় ট্রলিং বোটে (যান্ত্রিক পদ্ধতিতে মাছ ধরার ট্রলার) মাছ ধরায় ঝুঁকছেন জেলেরা। নিষিদ্ধ ট্রলিং বোটে মাছ শিকার বেড়ে গেলে সমুদ্রে মাছ দ্রুত কমে যাওয়ার পাশাপাশি মাছের আবাসস্থল ধ্বংস হবে মনে করছেন সাধারণ জেলেরা। তারা দ্রুত ট্রলিং বোট নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর-মহিপুর মৎস্য অবতরণকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় মাছ ধরার ট্রলার সংস্কার করে ট্রলিং বোট নির্মাণ করছেন মালিকরা। ট্রলিং বেটের জেলে আবদুর রাজ্জাক জানান,  ট্রলিং বোটে স্বল্পসময়ে সাগরে একটি খেও সম্পন্ন (একবার জাল ফেলে তা তোলা) করা সম্ভব। এখানে সবকিছু যান্ত্রিক উপায়ে করা হয়। ফলে পরিশ্রম কম হয়।

আর মাছ ধরা ট্রলারের জেলে অপু, মিনজাহ, শহিদুল প্যাদা বলেন, ‘ট্রলিং বোট বন্ধ করা না গেলে এক-দুই বছরের মধ্যে সমুদ্রে পানি ছাড়া আর কিছু থাকবে না। ট্রলিং বোটের জালে সব ধরনের মাছ নিধন হচ্ছে। তাই ছোট ফাঁসের জাল ও ট্রলিং বোট বন্ধের দাবি তাদের।

কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, মহিপুরে প্রায় ৩০টি ট্রলিং বোট রয়েছে। মৎস্য আইন ২০২০ অনুযায়ী সমুদ্রে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে মাছ শিকার নিষিদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন ঘাটে ট্রলিং বোট নির্মাণ চলছে। আর বোট মালিক মনির আহমেদ বলেন, ট্রলিং বোটে যে পরিমাণ মাছ ধরা যাচ্ছে  ট্রলারে সে পরিমাণ মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। স্বল্প জনবল, স্বল্প খরচে ট্রলিং বোটে সাগরে একটি ট্রিপে অধিক মাছ আসছে। অধিক লাভের কথা বিবেচনা করে ট্রলিং বোটে ঝুঁকছেন মালিকরা। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ট্রলিং পদ্ধতিতে মাছ শিকারের কথা শুনেছি। ট্রলিং বোটে ছোট ফাঁসের নেট ব্যবহার করা হচ্ছে। যাতে জেলেরা সচেতন হয় সেজন্য মাইকিং করা হচ্ছে।