পটুয়াখালীর দুমকিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধে এলজিইডির টেন্ডারে করা কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের ৬ মাসেই ধসে পড়েছে। সড়কটির প্রায় ১শ’ মিটার জায়গা ক্রমাগত ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হওয়ার উপক্রম হলেও মেরামতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ধসে পড়া সড়কের বাকী অংশেও বিশাল বিশাল ফাটল দেখা দেওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের পাশাপাশি নদীর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ও রবি ফসলের ক্ষতির শঙ্কায় উদ্বিগ্ন ওই এলাকার কৃষিজীবী মানুষ।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের কচাবুনিয়া নদীর পশ্চিমপাড় নেছারিয়া মাদ্রাসা থেকে পুকুরজানা বাজার পর্যন্ত সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়কের মাঝামাঝি অন্তত ১০০ মিটার পাকা রাস্তার প্রায় অর্ধেক নদীতে ধসে গেছে। এখন বাকি অর্ধেকেও ফাটল ধরেছে। নদীর তীরে টেকসই পাইলিং না থাকায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সড়কটি ছয় মাস যেতে না যেতেই ভেঙে পড়েছে। পাউবো কর্তৃপক্ষ ভাঙ্গন রোধে তাৎক্ষণিক কিছু বালুর বস্তা ফেললেও টেকসই পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে জোয়ার ভাটার স্রোতের তোড়ে বালুর বস্তার অস্থায়ী পাইলিং দেবে গিয়ে নতুন করে ফাটল দেখা দিচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এলজিইডির কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাহফুজ খান এর সাব কন্ট্রাক্টর মুনাব্বর হোসেন তড়িঘড়ি করে রাস্তাটির কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করে পাইলিং কাজ অসম্পন্ন রেখেই বিল তুলে নেন। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, যথাযথ পরিমাপ ঠিক না রাখাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাছাড়া রাস্তার ধস রোধে ওই সময় স্থানীয় ভাবে কাঠ-বাঁশের পাইল দেয়া হলেও তা টেকসই হয়নি। সম্প্রতি সড়কটির সেই ভাঙা অংশে বিশাল বিশাল ফাটল দেখা দেওয়ায় এলাকাবাসী শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। যে কোন সময় সড়কটি পুরোপুরি ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের সাথে সাথে জোয়ারের পানি ঢুকে ওই এলাকার বাড়িঘর-ফসলী জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।
দক্ষিণ পাঙ্গাশিয়া গ্রামের রাজ্জাক ফকির জানান, কচা নদীর ভাঙনে যে কোন মুহূর্তে রাস্তাটি বিলীন হয়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর রাস্তা ভেঙ্গে গেলে কয়েক গ্রামের বাড়িঘর ফসলি জমি তলিয়ে ফসলের মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। একই অভিযোগ দক্ষিণ পাঙ্গাশিয়ার বাসিন্দা রাজ্জাক মল্লিক, আবদুল বারেক মেম্বরসহ অনেকের।
তেতুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিয়ারা বেগম বলেন, নদীতে ভেঙে পড়া রাস্তা দিয়েই স্কুলের বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। আমাদের এসব শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে। সড়ক যোগাযোগ রক্ষায় ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাস্তাটির নির্মাণ কাজের ঠিকাদার মোনাব্বর হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, কাজের পরিমাণ অনুযায়ী বিল দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কোনো টাকা তোলার সুযোগ নেই। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তদারকি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মেনেই কাজ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাদ জগলুল ফারুক বলেন, এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তা, ভাঙন ঠেকাতে তারা হয়তো কোন ব্যবস্থা নিবেন এবং যেহেতু আমরা পাকাকরণ করেছি তাই সড়ক মেরামত কারার লক্ষ্যে সামনে মেইনটেন্যান্স প্রকল্প থেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুর রহমান বলেন, কচা নদীর তীরবর্তী রাস্তাটির ভাঙ্গন রোধে ইতোপূর্বে জরুরী মেইনটেনেন্সের মাধ্যমে কিছু বালুর বস্তার ফেলা হয়েছিল। সরেজমিন পরিদর্শন করে টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।