সরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে মানবপাচার, ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগে আবুল কালাম আজাদ ওরফে শাহারিয়ার নাফিজ ইমন (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার জি এম আবুল কালাম আজাদ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে নাটোরের লালপুর উপজেলার হাজি মার্কেট এলাকা থেকে পুলিশ ও র্যাব-৫ এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার শাহারিয়ার নাফিজ ইমন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বড় দুধপাতিলা গ্রামের মৃত আয়নাল হকের ছেলে।
পুলিশ সুপার জানান, আসামি আবুল কালাম আজাদ ওরফে শাহারিয়ার নাফিজ ইমন ওরফে বুলবুল তার পরিচয় গোপন করে সরকারি চাকরিজীবী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জেলার নারীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাদের বিয়ে করত। পরে তার শ^শুরবাড়ির আত্মীয় স্বজনদের সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে টাকা হাতিয়ে নিত। এভাবে সে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। সে নিজেকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর অডিট অফিসার রাজবাড়ী, ফরিদপুর, যশোর, পাবনা, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি অফিসের দায়িত্বে আছে বলে পরিচয় দিয়ে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার আশা (১৭) নামে এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে আসামি তাকে প্রতারণামূলক বিয়ে করে ধর্ষণ করে এবং গত ২৭ আগস্ট তাকে ফরিদপুরে যৌনপল্লীতে বিক্রির চেষ্টা করে। সেই সঙ্গে ভিকটিমের বাড়ি থেকে নগদ ৮ লাখ টাকা ও ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ভিকটিমের মা বিষয়টি জানতে পেরে রাজবাড়ীর পাংশা থানায় ধর্ষণ, প্রতারণা ও পাচারের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার পর থেকে আসামি আবুল কালাম আজাদ আত্মগোপনে চলে যায়। পরে র্যাবের সহায়তায় গত বৃহস্পতিবার রাতে লালপুরের হাজি মার্কেট এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, আসামি গত মার্চের ৭ তারিখ থেকে আগস্টের ২৬ তারিখ পর্যন্ত পাংশা থানার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৭ জনের কাছ থেকে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৪টি প্রতারণা ও ১টি চোরাচালানের মামলা রয়েছে।