‌‌‘ভোটের লিগা আইসা কত কথা কয়, পরে তাগো দেহিনা’

ভোটের সময় আসে, ভোট চলে গেলে আর কেউ আসেনা। ৫২ বছর ধইরা আমরা খালি ভোট দিতাছি। আমাগো এলাকা যেমনে আছাল হেমনেই আছে। ভোটের লিগা আইসা কত কথা কয় আর পরে তাগো দেহিনা। এমন অভিযোগ করেছেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়েনের চার নম্বর ওয়ার্ডের বন্যাতলী গ্রামের ষাটোর্ধ বৃদ্ধ সাধন সরকার। তার অভিযোগের সাথে একমত পোষণ করেছেন গোবিন্দপুর গ্রামের খুশিমোহন সরকার, যতিন্দ্রনাথ মন্ডল, ধীরেন্দ্রনাথ সরকার ও কৃষ্ণপদ সরকার।

তারা আক্ষেপ করে বলেন, ভোট আসলেই নানা প্রতিশ্রুতি দেয় নেতারা। ভোট শেষ হওয়ার আর খবর রাখে না। সীমান্তবর্তী গ্রাম দুটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। ইউনিয়ন পরিষদ যেতে হলেও জমির আইল ধরে যেতে হয়। মির্জাপুর থেকে তরফপুর ইউনিয়নের রামপুর পর্যন্ত যানবাহনের ব্যবস্থা আছে। এরপর নদী পার হয়ে জমিরি আইল ধরে হাঁটতে হয়। 

জানা গেছে, গ্রাম দুটিতে কোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। ৪০ থেকে ৫০ জন শিশু দুই-আড়াই কিলোমিটার দুরে পাথরঘাটা ও ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তে যায়। বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া যাতায়াত করা যায় না। রাস্তাঘাট উঁচু না হওয়ায় জুন থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত বছরের প্রায় ছয় মাসই পানিতে ঢুবে থাকে।

ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আব্দুর রউফ বলেন, গ্রাম দুটির উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। রামপুর ও চাকলেশ্বর ব্রীজের কাজ প্রক্রিয়াধীন। ব্রীজের কাজ  শেষ হলে ভোগান্তি কিছুটা কমবে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খান আহমেদ শুভ বলেন, আমি উপ-নির্বাচনে জয়লাভ করে সাধ্যমত এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছি। এবছর নির্বাচিত হতে পারলে গোবিন্দপুর ও বন্যাতলী গ্রাম দুটির উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।