পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে পুরুষরা গুমের শিকার হচ্ছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যা দেখে দেখে বালুচ সমাজ ক্ষুব্ধ ও বিষণ্ণ। প্রতিবাদ মানে সেখানে গুম হয়ে যাওয়া।
গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রতিবাদে বেলুচ নারীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া লংমার্চ রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছালে পুলিশ তা ছত্রভঙ্গ করতে জল কামান এবং টিয়ার গ্যাস ছুড়েছে। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।
এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে পাকিস্তানি গণমাধ্যম দ্যা ডন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারী নারীদের প্রচণ্ড মারধরের পাশাপাশি টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও গ্রেপ্তার করে ইসলামাবাদ পুলিশ। এমনকি নিখোঁজ বালুচ ব্যক্তিদের পরিবারের অনেক সদস্যকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত বুধবার জলকামানের ও টিয়ার শেলের তোড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয় নারীদের এই বিক্ষোভ। নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
নির্বাচনী উত্তেজনা ছাপিয়ে পাকিস্তান জুড়ে বিস্ময়ের ঢেউ তুলেছে বেলুচ নারীদের এই বিশাল কাফেলা।
বিক্ষোভকারীদের অনেকেই জানিয়েছেন যে, পুলিশ নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের গ্রেপ্তার করতে শহর জুড়ে বেলুচ বাসিন্দাদের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে। এমনকি দমন-পীড়নের সময় পুলিশ নারীদের মারধর করছে বলেও দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
মূলত পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বেলুচ অঞ্চলে সশস্ত্র স্বাধিকার আন্দোলনের জন্য প্রায় সব বেলুচকে সন্দেহের চোখে দেখে। শিক্ষিত তরুণীরাও এই সন্দেহের বাইরে নেই। আর তাই প্রায়শই গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যার মত ঘটনা ঘটে অঞ্চলটিতে।
আর এই সব সহিংসতার ফলাফল হল নারীদের এই লং মার্চ। বেলুচিস্তানের দ্বিতীয় প্রধান শহর তুরবাত থেকে শুরু করে ডেরা গাজি খান, পাঞ্জাব ছুঁয়ে ইসলামাবাদে এসে থামে নারীদের মিছিল। প্রায় বারো শ মাইল দূরত্ব পেরিয়েছেন তাঁরা। পথে পথে বেলুচ নারীরা যে দাবি তুলে ধরেছে তা হলো গুম-খুন বন্ধ করা এবং আটক বেলুচদের মুক্তি দেয়া। তাদের স্লোগান ছিল: ‘স্টপ বেলুচ জেনোসাইড’।