সপ্তাহে ডেঙ্গু রোগী মৃত্যু কমেছে ৪২ শতাংশ

দেশে গত এক সপ্তাহে (১৭-২৩ ডিসেম্বর) ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যু ৪২ শতাংশ করে কমেছে। এ সময় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৯০ জন ও মারা যায় ১৫ জন। এর আগের সপ্তাহে (১০-১৬ ডিসেম্বর) রোগী ছিল ২ হাজার ২৯০ জন ও মারা যায় ২৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সপ্তাহে (৩-৯ ডিসেম্বর) তার আগের সপ্তাহের তুলনায় রোগী কমেছিল ৩৪ শতাংশ ও মৃত্যু কমেছিল ৩২ শতাংশ। এরপরের সপ্তাহে (১০-১৬ ডিসেম্বর) রোগী কমে ৪২ শতাংশ ও মৃত্যু ১৩ শতাংশ। সে হিসেবে গত সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৯ শতাংশ মৃত্যু বেশি কমেছে। তবে রোগী কমার হার একই ৪২ শতাংশই রয়েছে।

গত সপ্তাহে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর ৭৩ শতাংশ ঘটেছে হাসপাতালে ভর্তির প্রথম তিন দিনের মধ্যে। ৭ শতাংশ করে মারা গেছে ভর্তির চার থেকে পাঁচ দিন ও ছয় থেকে ১০ দিনের মধ্যে। ১৩ শতাংশ রোগীর মৃত্যু হয়েছে ভর্তির ১০ দিনের বেশি সময়ের মধ্যে। এ সময় ৯৩ শতাংশ বা ১৪ জন রোগী মারা গেছে ডেঙ্গু শকসিন্ড্রোমে ও মোট মৃত্যুর ৭ শতাংশ বা একজন রোগী মারা যায় ডেঙ্গু হেমোরেজিক বা রক্তক্ষরণ ডেঙ্গুতে।

গত সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি মোট ডেঙ্গু রোগীর ৬২ শতাংশ বা ৮০০ জন ছিল পুরুষ, কিন্তু পুরুষ মারা গেছে মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ বা ১০ জন। অন্যদিকে, নারী রোগী ছিল ৪৯০ জন, যা সপ্তাহে মোট রোগীর ৩৮ শতাংশ। কিন্তু নারী মৃত্যু ছিল মোট মৃত্যুর ৩৩ শতাংশ বা পাঁচজন।

গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) গত পাঁচ দিনের মধ্যে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও রোগী ভর্তি হয়েছে। এ সময় মারা যায় চারজন ও দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয় ১৮৮ জন। এর আগে এর চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয় ২০ ডিসেম্বর ২০৭ জন ও একই দিন সমসংখ্যক মৃত্যু হয়।

নতুন যে চারজন মারা যায়, তাদের মধ্যে দুজনের ঢাকায় ও দুজনের ঢাকার বাইরে মৃত্যু হয়। এ নিয়ে এ বছর ডেঙ্গুতে মোট মারা গেল ১ হাজার ৬৯৭ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় মারা গেছে ৯৭৭ জন ও ঢাকার বাইরে ৭২০ জন।

মোট মৃত্যুর ৫৭ শতাংশ বা ৯৬৮ জন নারী। কিন্তু নারী রোগী মোট রোগীর ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে, মোট মৃত্যুর ৪৩ শতাংশ বা ৭২৯ জন পুরুষ। কিন্তু পুরুষ রোগী মোট রোগীর ৬০ শতাংশ। নতুন ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ১৪৭ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকার বাইরে ও ৪১ জন ঢাকায়। এ নিয়ে দেশে এ বছর মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৩ লাখ ২০ হাজার ৪৬০ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৬৪৩ জন ও ঢাকায় ১ লাখ ৯ হাজার ৮১৭ জন।