রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুনে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় পাঁচ দিন পার হলেও এখনো কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। তবে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি সম্ভাব্য সব জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তার ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের বিষয়ে খোঁজখবর করা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ। তদন্তকারী সংস্থা রেলওয়ে পুলিশের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা এখনো এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারিনি। এ ছাড়া এখনো কাউকে শনাক্ত করা যায়নি যে কে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। আমরা বিভিন্ন মেথড ফলো করে তদন্ত কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটির সম্ভাব্য সব জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছি আমরা। সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে সন্দেহভাজনদের বিষয়ে খোঁজখবর করা হচ্ছে। ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করার স্থানের আশপাশ এলাকার যে দোকানদার তাদের দেখানো হচ্ছে, কোনো ক্লু পাই কি না।
পুলিশ সুপার আনোয়ার সেদিন যারা ওই ট্রেনের ওইসব বগিতে ছিল, তাদের সঙ্গেও কথা বলছেন। তারা সেদিন কোনো কিছু সন্দেহজনক কিছু দেখেছেন কি না, যাদের স্বজন মারা গেছেন তাদের স্বজন যারা সেদিন ওই বগিতে ছিল তাদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে যে, তারা কী দেখেছেন বা সন্দেহজনক কিছু দেখেছেন কি না।
গত ১৯ ডিসেম্বর ভোররাত ৫টায় মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় মা ও শিশুসন্তানসহ চার যাত্রী নিহত হন। নাশকতা এবং হত্যার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা করা হয়। এ ঘটনার পর রেলওয়ে পুলিশ তদন্তকারী সংস্থা হলেও গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও কাজ করছে।
নিহতের স্বামী ও শিশুসন্তানের বাবা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি সাধারণ মানুষ। আমার অত শক্তি নেই যে মামলা করব। এ ছাড়া মামলা করলে এটার জের টানার মতো শক্তি আমার নেই। আর কার কাছে বিচার চাইব? আমার কিছু বলার নেই। আল্লাহ কেন এমন করলেন আমি জানি না।’
রেলওয়ে কর্তৃক করা মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোররাত ৪টা ৪০ মিনিটে বিমানবন্দর থেকে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। এর তিন মিনিট পর ট্রেনের ‘জ’ ও ‘ঝ’-এর মাঝামাঝি জায়গায় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন ধোঁয়ায় অন্ধকার হলে সেখানে যাত্রীরা চেঁচামেচি শুরু করেন। পরে ‘জ’ বগির স্টুয়ার্ড মানিক বিষয়টি টের পেয়ে স্টুয়ার্ড ম্যানেজার রাহাতকে জানান। রাহাত পরে মামলার বাদীকে বিষয়টি জানান।