পাঁচ দিনের মাথায় ফের গণছিনতাই মোহাম্মদপুরে

পাঁচ দিনের ব্যবধানে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ফের গণছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে ভরদুপুরে। গতকাল রবিবার রায়েরবাজার এলাকায় সড়কে, অলিগলিতে যাকে পাওয়া গেছে, ধারালো অস্ত্রধারী ছিনতাকারীরা তার কাছ থেকেই কেড়ে নিয়েছে মোবাইল ফোন ও ম্যানিব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র।

নির্বাচন সামনে রেখে এমনিতেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব বড়দিন উপলক্ষেও রাজধানীতে পুলিশের কড়া নজর। এরই মধ্যে পথচারীদের গণছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার এমন ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গতকালের ছিনতাইয়ের বিষয়ে এলাকাবাসী জানিয়েছে, আধঘণ্টা ধরে পাঁচ-ছয়জন তরুণ-কিশোর পথে যাকে পেয়েছে, তার কাছ থেকেই ম্যানিব্যাগ, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। এক সাইকেল চালকের গতিরোধ করে তার সাইকেলও ছিনিয়ে নিয়েছে। পুরো এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি হয় তখন। স্থানীয় লোকজনও আতঙ্কে এলাকা থেকে সরে পড়েন। তবে অন্য এলাকার পথচারীরা পড়েন ছিনতাইকারীদের কবলে। তবে ঠিক কতজন ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অবশ্য পুলিশ বলছে, গতকালের ঘটনায় দুজন ভুক্তভোগী তাদের কাছে গিয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার আজিজুল হক বলেন, ভুক্তভোগী দুজন তাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। এরপর তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত চার ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকে পেশাদার ছিনতাইকারী। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও ছিনতাই হওয়া একটি বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ থেকে চাঁদ উদ্যান হাউজিং এলাকার অন্তত দেড় কিলোমিটার সড়ক জুড়ে কুপিয়ে গণছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া গত ২৯ সেপ্টেম্বরও মোহাম্মদপুর থানার বসিলা গার্ডেন সিটি হাউজিং এলাকায় গণছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী বলছে, মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের একাধিক গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপের প্রায় সবাই মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করতে প্রায় প্রতিদিনই দল বেঁধে ছিনতাই করে থাকে। শুধু বড় ঘটনা ঘটলেই তা জানাজানি হয়। এই কিশোর গ্যাং সদস্যরা বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকে। পুলিশ মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও হোতারা অধরাই থাকে।