সাবেক সচিব ও কূটনীতিক শমসের মবিন চৌধুরী ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। ২০১৫ সালে হঠাৎ করে তিনি রাজনীতি থেকেই অবসর নিলেও তা ভাঙতে সময় লাগেনি। ৩ বছর পর তিনি চমক সৃষ্টি করে সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরির বিকল্পধারায় যোগ দিয়ে রাজনীতিতে ফিরে আসেন।
কিন্ত বিকল্পধারার রাজনীতিতেও খুব বেশি দিন থাকতে পারেননি। দলটির প্রেসিডিমায় মেম্বারে জায়গা পাওয়ার পরও রাজনীতিতে 'উচ্চাভিলাষী' শমসের মবিন সন্তুষ্ট হতে পারেননি। আবারও রাজনীতির বাইরে চলে যান। জীবনে কখনো সংসদ সদস্য হতে না পারা শমসের মবিন চৌধুরী দ্বাদশ নির্বাচনের মাত্র সাড়ে তিন মাস আগে আচমকা যোগ দেন বিএনপির প্রয়াত নেতা নাজমুল হুদার দল তৃণমূল বিএনপিতে। যোগ দিয়েই দলটির চেয়ারপারসন হয়ে যান।
ধারণা করা হচ্ছে সরকারের সঙ্গে এক ধরনের অদৃশ্য জোট গঠন করে নির্বাচনে যাচ্ছে তৃণমূল বিএনপি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন ও মহাসচিব তৈমুর আলম খন্দকার একাধিকবার সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন। তারা সংসদে যাওয়ার নিশ্চয়তা পেয়েই তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দেন এবং এরপর সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে রাজনীতিতে গুঞ্জন আছে।
তবে শাসকদল আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন। তিনি বলেন, আমরা কারও কাছে আসন কিংবা তাদের মার্কা চাইনি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে কথা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জনগণের ভোটে তৃণমূল বিএনপির প্রতীক 'সোনালি আঁশ' নিয়ে জিতে সংসদে যেতে চাই।
তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, নির্বাচন নিয়ে মানুষের আগ্রহ দেখে উৎসাহ বোধ করছি। মানুষের খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। আশাকরি একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। এখন পর্যন্ত প্রশাসনকে নিরপেক্ষ মনে হচ্ছে। ৭ তারিখ পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ এভাবে থাকলে তৃণমূলের প্রার্থীরা ভালো আসন পাবেন।
আপনি বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, নতুন করে তৃণমূল বিএনপির পরিচয়ে কোনো হয়রানীর শিকার হচ্ছেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একদম না। মানুষ ইতিবাচকভাবেই নিয়েছে।
শমসের মবিন চৌধুরীর সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে আবারও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ। সরকার দলীয় প্রার্থী হিসেবে নাহিদ কোনো অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন কী না কিংবা নির্বাচন নিয়ে কোনো অভিযোগ আছে কী না এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। ইলেকশন কমিশন সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে ভোট সুষ্ঠু হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
২০০৮ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যান শমসের মবিন। একই বছর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং পরের বছর ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।