এ বছর গান বেজেছে। আগের বছরগুলোতে গান যে বাজেনি এমন নয়। এখন গান বাজে কানে, হেডফোনে। হিসেব হয় মিলিয়নে। এর বাইরে এ বছর বাংলা গান বেজেছে শপিংমলে, ঘরে-বাইরে; সাউন্ডবক্সে। চলচ্চিত্রের গান যেমন শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে তেমনই এককভাবে প্রকাশ করা অনেক গান শ্রোতারা লুফে নিয়েছেন। চলতি বছর একক, নাটক, সিনেমা সবকিছু মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজারের বেশি গান প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে। কেউ কেউ একটি-দুটি গানে ছক্কা হাঁকিয়েছেন, কেউবা অনেক গানেও আলো ছড়াতে পারেননি। তবে এ বছর একক গানে বা মিউজিক ভিডিওতে খুব বেশি মাতাতে পারেননি শিল্পীরা। চলচ্চিত্র, কিছু ওয়েব ফিল্ম ও নাটকের গানে নতুন করে জেগেছে সংগীত শিল্প। সর্বাধিক ভিউ কিংবা আলোচনা দুই জায়গাতেই এগিয়ে রয়েছে চলচ্চিত্রের গান। ২০২৩ সালের সংগীতের আদ্যোপান্ত বিশ্লেষণ করেছেন মাহতাব হোসেন, ইমরোজ বিন মশিউর ও ইমরুল নূর
আলোচিত ৫ শিল্পী
এ বছর গেয়ে আলোচনায় এসেছেন অনেক কণ্ঠশিল্পী। তাদের গান সুরের ঢেউয়ে ছড়িয়ে গেছে সৈকত ছাড়িয়ে বহুদূর। জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন যেমন তেমনই তাদের গান মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে
সোমনুর মনির কোনাল
বিগত সময়ের চেয়ে কোনালের এ বছর ছিল সবচেয়ে সফলতার বছর। চলচ্চিত্রের তিন গান তুমুলভাবে আলোচিত হয়েছে। ইদুল ফিতরে লিডার আমিই বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের ‘সুরমা সুরমা’ গান গেয়ে আলোচনার সূত্রপাত। সেটা বহুগুণ বেড়ে যায় ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া ‘প্রিয়তমা’ চলচ্চিত্রের টাইটেল গান গেয়ে। একই ঈদে মুক্তি পায় প্রহেলিকা চলচ্চিত্রের ‘মেঘের নৌকা’। এই তিন গান কোনালের কণ্ঠকে পৌঁছে দিয়েছে সব শ্রেণির শ্রোতার কাছে।
বালাম
সংগীত শিল্পী বালামের সফল প্রত্যাবর্তনের বছর ছিল এটি। প্রিয়তমা গানের টাইটেল গান ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার মাস কয়েক আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন সংগীতে তিনি নিয়মিত হচ্ছেন। তার সেই ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে ঈদুল ফিতরের মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রে। হাটেবাজারে, মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে ও প্রিয়তমা, আমার প্রিয়তমা...
রিয়াদ
চলচ্চিত্রের প্রথম গান গেয়েই তুমুল পরিচিতি পেয়েছেন এই তরুণ তুর্কি। প্রিয়তমা চলচ্চিত্রে সোমেশ্বর অলির লেখা ও প্রিন্স মাহমুদের সুরে ঈশ্বর গানটি রিয়াদকে গায়ক হিসেবে এ বছর প্রতিষ্ঠিত করেছে। ঈশ্বর গান শুধু শ্রোতারা গ্রহণই করেননি- রিয়াদের কণ্ঠ ড্রয়িংরুম থেকে শপিংমল সবখানেই বেজেছে।
ইমরান
এ বছরের অন্যতম সফল গায়ক ইমরান। লিডার আমিই বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে গাওয়া সুরমা সুরমা গানটি শ্রোতারা গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে প্রহেলিকা চলচ্চিত্রের মেঘের নৌকা গানে আবেগ মিশ্রিত রোমান্টিসিজমে ভেসেছেন শ্রোতারা।
ইশান মজুমদার
নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে নিঠুর মনোহর গানটি প্রকাশ করেছিলেন ইশান মজুমদার। হয়তো তিনি নিজেও বুঝতে পারেননি এই গান মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়বে, হাজারো উঠতি শিল্পী গাইবে তার গান। এই গান ঈশানকে কোক স্টুডিওতে গাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।