চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড

সচিবের ছেলের পুনঃনিরীক্ষণ আবেদন ঘিরে আরও রহস্য

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব ও সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের ছেলের এইচএসসি ফলাফলের পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন নিয়ে এবার পাল্টা জিডি হয়েছে। এবার জিডি করেছেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল আলীম। 

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) কোতোয়ালি থানায় তিনি এ জিডি করেন। জিডি নম্বর ২৬৯৭। এর আগে কে বা কারা সচিবের ছেলের রোল নম্বর ব্যবহার করে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছিল, সেজন্য সচিবের স্ত্রী বনশ্রী নাথ পাঁচলাইশ থানায় গত ৪ ডিসেম্বর জিডি করেছিল। সেই জিডির পরিপ্রেক্ষিতে তা তদন্ত করছিলেন পাঁচলাইশ থানা পুলিশের মোহাম্মদ রেজাউল করিম। কিন্তু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান জিডি করলেন কেন? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার সব বক্তব্য আমি আমার জিডির মধ্যে উল্লেখ করেছি।’

জিডিতে আবদুল আলীম উল্লেখ করেন, অদ্য ২৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে পাঁচলাইশ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মোহাম্মদ রেজাউল করিম আমাকে ফোন দেন। এ সময় তিনি বলেন, আমার নাম্বার তদন্ত করতে গিয়ে পেয়েছেন। আমি বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি জানান যে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথের ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের একটি আবেদন চকরিয়া কম্পিউটার দোকান থেকে করা হয়েছে। সেখানে আমার বাংলালিংক নাম্বার রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করেছে। আমি মনে করি আমার নাম্বার এভাবে ব্যবহার করাটা ষড়যন্ত্রমূলক। 

বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য আপনার বরাবর অনুরোধ করছি। উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও বর্তমান সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথ আমি চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালে ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়ায় তদন্ত কমিটি কর্তৃক দোষীসাব্যস্ত হন। এরপর থেকে আমার বিরুদ্ধে তিনি নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার তদন্তকারী অফিসার রেজাউল করিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বনশ্রী নাথের দায়ের করা জিডির বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে টেলিটক মোবাইল থেকে আমরা উনার ছেলের নক্ষত্র দেব নাথের নামে যে মোবাইল নাম্বার থেকে আবেদন করা হয়েছিল, সেই নাম্বারটি পাই। সেখানে রেফারেন্স হিসেবে বাংলালিংকের একটি নাম্বার পাওয়া যায়। আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে আমি সেই নাম্বারে ফোন দিয়ে জানতে পারি এটা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আলীম স্যারের। আমি শুধু স্যারকে জানিয়েছি পুনঃনিরীক্ষণ আবেদনে রেফারেন্স হিসেবে আপনার নাম্বারটা পেয়েছি। তাই তদন্তের খাতিরে ফোন দিয়ে জানতে চেয়েছি এটা কার নাম্বার। পরবর্তী সময়ে সিম রেজিস্ট্রেশন তালিকা থেকে জানতে পারি এ মোবাইল নাম্বারটি আবদুল আলীমের নামে নিবন্ধিত।’

তবে যে পুনঃনিরীক্ষণ নিয়ে জিডি পাল্টা জিডি হচ্ছে সেই রোল নাম্বারটি প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণ ফলাফলে নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এএমএম মুজিবুর রহমান বলেন, ‘শুধু যাদের ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে প্রকাশিত ফলে বিধি অনুযায়ী তাদের রোল নাম্বারই থাকার কথা। আর কোনো রোল নাম্বার কার তা জানার কোনো সুযোগ ফলাফল প্রক্রিয়ায় নেই।’

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সচিবের ছেলে নক্ষত্র দেব নাথ বা পরিবারের কেউ এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেনি। তবে নক্ষত্র বাংলা ছাড়া সব বিষয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছিল এবং সামগ্রিক ফলাফলেও জিপিএ ৫ পেয়েছিল। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে গেলে তারা দেখতে পান, আগেই কে বা কারা আবেদন করে রেখেছিল। কে এ আবেদন করেছিল তা খুঁজে বের করতে পরিবারের পক্ষে নক্ষত্র দেবনাথের মা বনশ্রী নাথ পাঁচলাইশ থানায় জিডি করেছিলেন।