খুলনা-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শেখ আকরাম হোসেনের মনোনয়ন বৈধ বলে রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। ভোটের লড়াইয়ে তার ফিরে আসায় নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ শিবিরে চিন্তা বেড়ে গেছে। ভোটাররা মনে করছেন, ভোটে এ আসনে এবার আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ নানা ইস্যু প্রভাব ফেলবে। সে কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী আকরাম ও নারায়ণের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
ভোটার ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ডুমুরিয়া ও ফুলতলা এ দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৫ আসন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়া প্রতিবারই এ আসন থেকে জয় পেয়েছে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। সুতরাং খুলনা-৫ বরাবরই আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই আসনে কয়েক দফায় এমপি হয়েছেন নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। এবারও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তাকেই নৌকার মাঝি করেছেন। এ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয় পার্টির মো. শাহীদ আলম ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার। কিন্তু দুজনের মধ্যে কেউই জনপ্রিয়তায় নারায়ণ চন্দ্র চন্দের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মতো শক্তিশালী প্রার্থী না। ফলে নারায়ণের হেসেখেলে জয় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের রায়ে স্বতন্ত্র হিসেবে শেখ আকরাম হোসেন ভোটের লড়াইয়ে ফিরে এসেছেন। এতে নৌকার প্রার্থী ও সমর্থকদের চিন্তা বেড়ে গেছে। এখন আওয়ামী লীগ প্রার্থী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেনের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শেখ মাহাতাপ হোসেনসহ কয়েকজন ভোটার জানান, আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার নিজ উপজেলায় উল্লেখযোগ্য ভোট রয়েছে। এ ছাড়া ডুমুরিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগ কয়েকটি ভাগে বিভাক্ত। ফলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের ভোটে বিভাজন ঘটবে। তাই বাছাইতে আকরামের প্রার্থিতা বাতিল হলে নির্ভার ছিলেন নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। কিন্তু উচ্চ আদালতের রায়ে আকরাম ভোটের মাঠে ফেরায় জয় পেতে নতুন ছক কষছেন নারায়ণ সমর্থকরা।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জানান, নানা কারণে নারায়ণের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের। এতদিন তারা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর সন্ধানে ছিলেন। আকরাম নিশ্চিতভাবে এসব নেতার সমর্থন পাবেন। তা ছাড়া একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় ভোটের মাঠে আকরাম দারুণ কৌশলী।
শেখ আকরাম হোসেন ভোটের মাঠে আসায় আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের চিন্তা বেড়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে তিনি বলেন, এখানে আওয়ামী লীগে কোন্দল বেড়েছে তা না। দলে সুবিধাবাদী লোক থাকে, তারা সুবিধা না পেলে চলে যায়। এতে দলের কিছুই হয় না। আওয়ামী লীগ টিকে আছে, টিকে থাকবে ভবিষ্যতে। এখানে প্রার্থী কোনো ফ্যাক্টর না। ফ্যাক্টর নৌকা, শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধু। যারা শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন তারা নৌকায় ভোট দেবেন। প্রার্থী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ আছেন বা অন্য কেউ আছেন ভোটাররা তা দেখবেন না। ভোটার নৌকায় ভোট দিয়ে জয়ী করবেন।
অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন বলেন, নৌকার প্রার্থীর পক্ষ থেকে নানারকম হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি প্রচারণা শুরু করেছি। জনগণ পরিবর্তন চায়। সুষ্ঠু ভোট হলে বড় ব্যবধানে জয়ের আশা করছি।