বানিয়াচং থানায় চুরি মামলার আসামি গোলাম রাব্বানী (২৫) মৃত্যুর ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হাসিবুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) পলাশ রঞ্জন দে ও আদালত পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুল ইসলাম।
২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে এই কমিটিকে তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. আক্তার হোসেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দুপুরে বানিয়াচং উপজেলার নন্দিপাড়া গ্রামের মহিউদ্দিন মিয়ার ছেলে গোলাম রাব্বানীকে একটি টমটম চুরি মামলায় গ্রেপ্তার করেন এসআই মনিরুল ইসলাম। তাকে হাজতখানায় না রেখে পাশের একটি কক্ষে রাখা হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, সন্ধ্যায় রাব্বানীকে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় গেঞ্জির ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে রাব্বানীর বড়ভাই মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন মঙ্গলবার রাতে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার ভাইয়ের শরীরে ব্যাপক আঘাতের চিহ্নের একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করে ভাই হত্যার বিচার চান। তিনি বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের নির্যাতনে তার ভাইর মৃত্যু হয়েছে। আমার ভাইয়ের পুরো শরীর ক্ষত-বিক্ষত করেছে তারা (পুলিশ সদস্যরা)। সারা শরীরে শুধু লাঠির আঘাত ও নির্যাতনের চিহ্ন। ময়নাতদন্তের সময় মর্গের সামনে অনেক পুলিশের অবস্থান লক্ষ করা যায়।
মঈন উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ির সামনে থেকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে পুলিশ আমার ভাইকে তুলে আনে। তবে আমরা কেউ বিষয়টি জানতাম না। সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমরা জানতে পারি সে বানিয়াচং থানায় আছে। তখন আমার মা থানায় যান। থানা থেকে আমার মাকে জানানো হয় রাব্বানীর বুকে ব্যথা। তাই তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাত ১০টার পর বানিয়াচং থানা থেকে জানানো হয়- রাব্বানী থানার রেস্টরুমে তার স্যান্ডো গেঞ্জি ও কোমরের বেল্ট খুলে ফ্যানের সাথে বেঁধে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।
গ্রেপ্তারের পর রাব্বানীকে হাজতে রাখার কথা। কেন তাকে অন্য কক্ষে রাখা হবে বা পুলিশ কোথায় ছিল এ প্রশ্ন তুলে তিনি ভাই হত্যার বিচার দাবি করেন। মুঠোফোনে এই প্রতিবেদক উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি নিজে গ্রেপ্তার করেন বলে স্বীকার করেন। তবে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি পরে ফোন দিয়ে জানাবেন বলে কল কেটে দেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতেই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গোলাম রাব্বানীর সুরতহাল হয়।
এদিকে বুধবার হবিগঞ্জ মর্গে গোলাম রাব্বানীর ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। বাদ মাগরিব বানিয়াচং সদরের নন্দীপাড়া এলাকার বিবির মোকাম জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
বানিয়াচং থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। রাব্বানীর বিরুদ্ধে ৭/৮টি চুরি মামলা রয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পর্কে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের আরএমও ডা. নাজমা আক্তার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।