দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেল স্টেশনের কাউন্টার বা অনলাইনে ট্রেনের টিকিট পাওয়া না গেলেও কালোবাজারে ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে। কালোবাজারের টিকিট মিলছে স্টেশনের আশপাশের পানের দোকান, চায়ের দোকান, ফার্মেসি আর ফটোকপির দোকানে। কালোবাজারিরা বিভিন্নজনের পরিচয়পত্র দিয়ে টিকিট কেটে চড়া দামে সেগুলো বিক্রি করছে। অগ্রিম টিকিটের জন্য কাউন্টারে যোগাযোগ করেও টিকিট পাওয়া না যাওয়ায় কালোবাজার থেকে বেশি দামে টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা। কালোবাজারিরা অনলাইনে সক্রিয় হয়ে একযোগে টিকিট কেটে নেয়। এ ছাড়া স্টেশনের বুকিং সহকারীর সহযোগিতায় টিকিট সংগ্রহ করে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পার্বতীপুর রেলের টিকিটের প্রায় শতভাগ কালোবাজারি সিন্ডিকেটের দখলে চলে গেছে। অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দিলেই মিলছে টিকিট। স্টেশনের আশপাশের বিভিন্ন দোকানে পাওয়া যায় কালোবাজারের টিকিট। কালোবাজারি রোধে গত ১ মার্চ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে টিকিট কাটার নিয়ম চালু হলেও লাভ হয়নি। বিভিন্ন জনের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে টিকিট কেটে চড়া দামে বিক্রি করছেন কালোবাজারিরা। যাত্রীদের অভিযোগ, নতুন নিয়মে নিবন্ধন ছাড়াই আসনবিহীন টিকিট কাটার সুযোগ রাখা হয়েছে। তাছাড়া ট্রেনের ভেতরে জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে টিকিট ঠিকভাবে মিলিয়ে দেখা হয় না।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, পার্বতীপুর থেকে ঢাকায় ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। ছয়টি ট্রেনে পার্বতীপুরের জন্য শোভন চেয়ার বরাদ্দ ৪৪০টি। আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার ১২০টি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বার্থ আছে ৩০টি।
সম্প্রতি সরেজমিনে স্টেশনে দেখা যায়, কাউন্টারে কোনো টিকিট নেই। নাজমুল হক নামের এক যাত্রী ঢাকায় যাওয়ার জন্য নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট চেয়ে পাননি। পরে তিনি স্টেশনের পেছনে একটি কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকান থেকে টিকিট সংগ্রহ করেন। তবে এ বিষয়ে নাজমুল কথা বলতে চাননি।
স্টেশনের একজন কুলি বলেন, ‘কাউন্টারে টিকিট নেই তো কী হয়েছে? পেছনে অনেকেই ব্ল্যাকে ডবল দামে টিকিট বিক্রি করেন।’
মো. শওকত আলী নামে এক যাত্রী বলেন, ‘অনলাইন ও কাউন্টারে ঢাকায় যাওয়ার টিকিট না পেয়ে ব্ল্যাকারের কাছ থেকে ৪৪০ টাকার টিকিট ৮০০ টাকায় কিনেছি।’
নীলসাগর ট্রেনে ঢাকাগামী যাত্রী আশরাফুল হক বলেন, ‘অনলাইনে টিকিট পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। টিকিট এক থেকে দুই মিনিটে শেষ হয়ে যায়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কালোবাজারি বলেন, ‘নিয়ম করে কালোবাজারি বন্ধ করা যাবে না। কারণ সব যাত্রী লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে চায় না। দিন শেষে কেউ না কেউ কালোবাজারের ওপরই ভরসা করেন। নতুন পদ্ধতিতে সরাসরি আমরা টিকিট কিনতে পারি না। আলাদা আলাদা পরিচয়পত্র দিয়ে টিকিট কাটতে হয়। এজন্য রিকশাচালক, হোটেল শ্রমিকসহ আশপাশের অভাবী মানুষের এনআইডি দিয়ে টিকিট কাটা হয়। যার আইডি দিয়ে টিকিট কাটা হয় তাকে টিকিটপ্রতি ১০০ টাকা দিতে হয়।’
পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. রফিক চৌধুরী বলেন, ‘নতুন নিয়মে কালোবাজারিরা টিকিট কিনতে পারে না। তবে বাইরে থেকে অনলাইনে টিকিট কিনে বিক্রি করেন হয়তো কেউ কেউ। স্টেশনের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’
পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার ওসি একেএম নুরুল ইসলাম বলেন, ‘কালোবাজারি চক্রটি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বুকিং ক্লার্কদের সহযোগিতায় এ অপকর্ম করে যাচ্ছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে।’