সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭,৮০০ মেগাওয়াট

আগামী জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চলমান সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৭,৮০০ মেগাওয়াট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছর সেচ মৌসুমে এপ্রিল মাসে এই চাহিদা ছিল ১৬ হাজার মেগাওয়াট। আসন্ন সেচ মৌসুমে সেচ পাম্পসমূহে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা সভায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় ১৭টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় বলা হয়, বর্তমানে সেচ সংযোগের সংখ্যা ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫১টি এবং অপেক্ষমাণ আবেদন সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩২টি। অন্যান্য খাতে বিদ্যুতের চাহিদার পাশাপাশি শুধু সেচের জন্য জানুয়ারি মাসে ৩৪৭ মেগাওয়াট, ফেব্রুয়ারিতে ৮৬৫, মার্চে ১৯৪৯, এপ্রিলে ২৫৯০ এবং মে মাসে ২৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। সেচ মৌসুমে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ১৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং ন্যূনতম ১৫৪০ মিলিয়ন ঘনফুট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ফার্নেস অয়েলের চাহিদা ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫০ টন এবং ডিজেলের চাহিদা ১৫ হাজার ৬০০ টন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জ¦ালানি বিভাগ থেকে জানানো হয়, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ করা হবে।

সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আসন্ন সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য গ্যাস, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল সরবরাহ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে পরিকল্পনা মাফিক যার যার অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। তিনি বলেন, রাত ১১টার পর থেকে পরের দিন সকাল ৭টা পর্যন্ত অফপিক আওয়ারে সেচ পাম্প ব্যবহারের বিষয়ে প্রচারণা ও সঞ্চালন লাইনের প্রয়োজনীয় মেরামত বা সংস্কার করাসহ সেচ কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন বিতরণ সংস্থা/কোম্পানিসমূহে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা আবশ্যক। বিদ্যুৎ সচিব বলেন, জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে যাতে কোনো প্রকার সমস্যা না হয় সে বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ ও বিপিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বাবিউবো) পক্ষ থেকে যোগাযোগ রক্ষা করে জ্বালানি পরিবহন নিশ্চিত করা; সেচ পাম্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গ্রিড উপকেন্দ্র, সঞ্চালন লাইন, বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্রসমূহ সংরক্ষণ ও মেরামত কাজ জরুরিভিত্তিতে সম্পন্ন করতে হবে।

ওভারলোডেড সাবস্টেশনসমূহ ও সঞ্চালন লাইনের আপগ্রেডেশনের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করাসহ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে ন্যূনতম দুই মাসের উৎপাদন ক্ষমতার জন্য জ্বালানি তেলের মজুদ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় অন্যদের মধ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. নূরুল আলম, পিডিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ রেলপথ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দপ্তর প্রধান উপস্থিত ছিলেন।