রাজনীতির অধিকার নেই বিএনপির

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি হচ্ছে একটি সন্ত্রাসী দল। এই সন্ত্রাসী দলের বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। কারণ তারা মানুষ পোড়ায়, মানুষ হত্যা করে। তাদের রাজনীতি মানুষ চায় না। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বরিশাল নগরীর ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু উদ্যানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে যারা মানুষ হত্যা করেছে, লুটপাট করেছে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করেছে। যুদ্ধাপরাধে যাদের বিচার করে সাজা দিয়েছি। সেই যুদ্ধাপরাধীরা হচ্ছে তাদের (বিএনপির) দোসর। সন্ত্রাসী, খুনি, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি, মানি লন্ডারিং এবং যত ধরনের অপকর্ম এতিমের ওপর অর্থ আত্মসাৎকারী। সেই দলের সঙ্গে জুটছে যুদ্ধাপরাধীর দল। এরা নির্বাচন চায় না। বানচাল করতে চায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বিএনপি-জামায়াত অগ্নিসন্ত্রাস করছে। রেললাইনের প্লেট ফেলে দিয়ে, বগিতে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করে ফাঁদ পাতে। আমি ধিক্কার জানাই ওই বিএনপি-জামায়াতকে। সন্ত্রাসী দল। এই সন্ত্রাসী দলের কোনো রাজনীতি করার অধিকার এই বাংলাদেশে নেই। কারণ তারা মানুষ পোড়ায়, মানুষ হত্যা করে।’

জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা ৭ তারিখে সকালে সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন। নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন। এই নৌকা মার্কা মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা করেছিল। এই নৌকায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। এই নৌকায় ভোট দিয়ে আজ দারিদ্র্যবিমোচন হয়েছে। এই নৌকায় ভোট দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। এই নৌকায় ভোট দিলে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে। তা ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সেটা মাথায় রেখে ডেল্টাপ্ল্যান উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা আমি করে দিয়েছি। কাজেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।’

নতুন ভোটারদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা প্রথমবার ভোট দিতে আসবেন। নিশ্চয়ই চাইবেন না আপনার ভোট ব্যর্থ হোক। কাজেই আপনার ভোট নৌকা মার্কায় দিয়ে নৌকাকে জয়যুক্ত করবেন। বাবা, মা, ভাই সব হারিয়েছি। সব হারিয়ে এই বাংলাদেশে এসেছি শুধু একটি লক্ষ্য নিয়ে। সেই হারানোর ব্যথা-বেদনা বুকে নিয়েও বাংলাদেশের মানুষগুলোকে আমি আমার আপন পরিবার হিসেবে গ্রহণ করেছি। আজ সেই একটি পরিবারকে যখন রক্ষা করতে হয়, উন্নতি করতে হয়, সেভাবেই আমি বাংলাদেশের মানুষকে দেখি। তাদের জন্যই কাজ করে যাই। আপনাদের কাছে নৌকায় ভোট চাই। আপনারা সবাই নৌকায় ভোট দেবেন। আপনাদের থেকে বিদায়ের আগে একটি কথাই বলব, রিক্ত আমি, নিঃস্ব আমি, দেওয়ার কিছু নেই; আছে শুধু ভালোবাসা দিয়ে গেলাম তাই।’

বক্তব্যে বরিশাল অঞ্চলের কথা তুলে ধরতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এই বরিশাল একসময় ছিল শস্যভান্ডার। বরিশালের সেই সোনা আবার আমরা ফিরিয়ে আনতে চাই। আবার আমরা বরিশালকে শস্যভান্ডারে রূপান্তর করতে চাই। তার জন্য খাদ্য সংরক্ষণে আমরা সাইলো নির্মাণ করে দিচ্ছি, এখানে মেডিকেল কলেজ করে দিচ্ছি, প্রত্যেক বিভাগে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় করব ইনশাআল্লাহ। বরিশালে আমরা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে দেব। এখানে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি, মেরিন একাডেমি করে দিয়েছি। আর তা ছাড়া প্রত্যেকটি নদীর ওপর সেই শিকারপুর, দোহারিকা, গাবখান থেকে শুরু করে পায়রা, আন্ধারমানিক প্রত্যেকটা নদীর ওপর আমরা ব্রিজ তৈরি করে দিচ্ছি।’

বরিশালে ফুফুর বাড়ির কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই বরিশালে আসতাম। ছোটবেলা সন্ধ্যার সময় স্টিমারে উঠতাম। দুপুরে এসে নামতাম। তখন ঘোড়ার গাড়ি চলত। এই ঘোড়ার গাড়িতে উঠে আমি আমার ফুফুর বাড়িতে যেতাম। আমার এখনো মনে আছে, বলতে হতো কালীবাড়ি রোড সুদূর বাবুর বৈঠকখানার সামনে যেতে হবে। আমরা সেই ঘোড়ার গাড়িতে সেখানে যেতাম। অবশ্য পরে গাড়ি চালু হয়। বরিশাল কিন্তু অবহেলিত। আপনারাই বলেন আপনারা কোথায় আছেন? উন্নতি হয়েছে বরিশালের? আমরা উন্নয়ন করেছি। আমি গোটা বিভাগ নিয়ে বলব এখানে নৌবাহিনীর ঘাঁটি করেছি। সেনানিবাস তৈরি করেছি। এই এলাকার উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। এখানে আমরা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। সেখানে সোলার প্যানেলসহ কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। ভোলার গ্যাস সিএনজি করে আমরা ঢাকায় নিচ্ছি। ভবিষ্যতে বরিশালেও আমরা নিয়ে আসব। শিল্প কারখানা যাতে গড়ে ওঠে, সেই ব্যবস্থা করব।’

বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও শরিক দলের প্রার্থীদের জনসভায় সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন শেখ হাসিনা। এ সময় বিএনপির বহিষ্কৃত ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার প্রশংসা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘ঝালকাঠিতে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ শাহজাহান ওমর সন্ত্রাসী দল ছেড়ে সে এখন নৌকায় উঠেছে। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস সভা সঞ্চালনা করেন। সভায় অন্যদের মধ্যে ১৪-দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এদিকে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে আজ শনিবার বিকেলে মাদারীপুরের কালকিনিতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আগমন ঘিরে কালকিনি জুড়ে চলছে সাজসাজ রব।

প্রতিবেদনটিতে তথ্য দিয়েছেন মাদারীপুর প্রতিনিধি