অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ কোম্পানি লিমিটেড (এএনএ) নামের বিদেশি বিমান সংস্থায় চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়েছে একটি প্রতারক দল। চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর র্যাব বলছে, ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরির কথা বলে কোটি টাকা হাতিয়েছে। তাদের টার্গেট ছিল আগামী ছয় মাস চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ইন্টারভিউ ও প্রশিক্ষণের নামে অন্তত ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ভাটারায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হাতিয়ে নেওয়া ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো চক্রের মূলহোতা ও হোমিওপ্যাথি ওষুধ বিক্রেতা এমএ হক আলম ফরহাদী (৬০), মেহেরাব হোসেন (২১), মো. রাসেল হোসাইন (৩০) ও শাহাদাত হোসেন (৩৫)।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, চক্রটি শুধু ইন্টারভিউর নামে কোটি টাকা হাতিয়েছে। পাশাপাশি ভাটারায় ড্রাগমা ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে টাকা আদায়ের চুক্তি করে। এভাবেও বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়েছে তারা।
র্যাবের এ অধিনায়ক আরও বলেন, মূলহোতা স্বল্পশিক্ষিত আলম ফরহাদী ফেনীতে নিজ এলাকায় হোমিওপ্যাথির ওষুধ বিক্রি করতেন। পরে ঢাকায় এসে অল্প সময়ে টাকা আয় করতে বিভিন্ন প্রতারণার সঙ্গে জড়িয়ে যান। প্রতারণা করতে বিসিএস শিক্ষা কর্মকর্তা, দুদক কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করতেন। এমনকি ভুক্তভোগী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে তার তিন সন্তান সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিতেন। সম্প্রতি তিনি এএনএ নামের জাপানি এয়ারওয়েজ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর এ প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নামে ফাঁদ পাতেন। মাত্র এক মাসে তার মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়েছেন শতাধিক চাকরিপ্রার্থী।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার মেহেরাব একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। চাকরির খোঁজ করতে গিয়ে ফরহাদীর সঙ্গে পরিচয়। পরবর্তীকালে মোটা অঙ্কের টাকা বেতনের প্রলোভনে তিনি এ চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে যান। প্রতিষ্ঠানে তিনি কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। শাহাদাত পড়ালেখা শেষ করে বেকার ছিলেন। এর আগে তিনি কয়েক মাস একটি এয়ার টিকেটিং কোম্পানিতে চাকরি করেন। সহকর্মীর মাধ্যমে ফরহাদীর সঙ্গে পরিচয় হলে চক্রে যোগ দিয়ে রিজার্ভেশন অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করেন। রাসেল পড়াশোনা শেষ করে চাকরি খুঁজতে গিয়ে ফরহাদীর সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি অফিসের অফিস সহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন।