বাছাই পর্বের ব্যস্ততা ফুটবলে

২০২৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্যস্ততা মূলত ২০২৬ বিশ্বকাপ ও ২০২৭ এর এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বকে কেন্দ্র করেই। এর বাইরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রচেষ্টা ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোর সময়ে প্রীতি ম্যাচ খেলার। নারী ফুটবল দল হিমালয়ের কোল থেকে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের যে সম্মান বয়ে নিয়ে এসেছে, এই বছর ঘরের মাঠে সেই শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে ২০২৩ সালটা বেশ ব্যস্ত সূচিই ছিল বাংলাদেশ দলের। অফিশিয়াল এবং আন-অফিশিয়াল মিলিয়ে ২০২৩ সালে ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। যার ভেতর ৮টি ছিল প্রতিযোগিতামূলক, ৪টি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আর ৪টি বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান কাপের সম্মিলিত বাছাইপর্বে। এই বছর বিশ্ব ফুটবলের দুটো বড় আসর, কোপা আমেরিকা এবং ইউরো এবং সেই সঙ্গে অলিম্পিক গেমস থাকায় দেশে কোনো আমন্ত্রণমূলক ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজনেরও কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। শুধুই বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোতেই ব্যস্ত থাকতে হবে জাতীয় দলের ফুটবলারদের।

এএফসির বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ আছে দ্বিতীয় রাউন্ডের গ্রুপ ‘আই’তে। সঙ্গী অস্ট্রেলিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিন। ২টা করে ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের অবস্থান ৪ দলের মধ্যে চতুর্থ। এই বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত চলবে যৌথ বাছাই। মার্চে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে দেশে এবং তাদের নির্বাচিত ভেন্যুতে এই বছর খেলবে বাংলাদেশ, জুনে অস্ট্রেলিয়া আসবে বাংলাদেশে আর একই মাসে লেবাননেও যাবে বাংলাদেশ। গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এগিয়ে যাবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের পরবর্তী রাউন্ডে, তৃতীয় ও চতুর্থ দল খেলবে শুধুই এশিয়ান কাপের বাছাই। বাংলাদেশ যদি গ্রুপের শীর্ষ দুইয়ে জায়গা করে নিতে পারে তাহলে সেপ্টেম্বর থেকে আরও অনেকগুলো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি হবে বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে। আর যদি না পারে তাহলে এই বছর আর প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ নেই বাংলাদেশের, ফের ২০২৫ সালের মার্চে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের খেলা।

নারী জাতীয় দলের মূল চ্যালেঞ্জ ঘরের মাঠে সাফের শিরোপা ধরে রাখা। সেই লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশে এবং বিদেশে প্রীতি ম্যাচ খেলে সেরা প্রস্তুতি অর্জনই লক্ষ্য। গোলাম রব্বানি ছোটন দায়িত্ব ছাড়ার পর সাইফুল বারী টিটো অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করলেও এখনো প্রধান কোচই নিয়োগ দিতে পারেনি বাফুফে।

জাতীয় দলের বাইরে বয়সভিত্তিক দলগুলোও বছর জুড়ে ব্যস্ত থাকবে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়। ফেব্রুয়ারিতে দেশে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হবে। মার্চে নেপালে হবে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ। আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে সাফ অনূর্ধ্ব ১৭ ও অনূর্ধ্ব ২০ চ্যাম্পিয়নশিপ হওয়ার কথা, তবে ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত হয়নি।