শ্রম আইনে নোবেল বিজয়ী ও গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. ইউনূসের সাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যক্তি ও সংস্থার সমালোচনা প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেছেন, ‘আমাদের দেশের আইন নিয়ে বিদেশিদের কোনো ধারণা নেই। এখান থেকে যা বলে দেওয়া হয় তারা তাই অনুসরণ করেন।’
আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপাকালে একথা বলেন তিনি।
এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘শ্রম আদালতে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে মামলাটা হলো। যদি একজন শ্রমিককে অধিকার দেওয়া না হয় সেক্ষেত্রে আইনের বিধানমতে সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেওয়া হবে। নোটিশের বিধান যদি প্রতিপালন না করেন তাহলে মামলা হবে। উনার (ড. ইউনূস) ক্ষেত্রে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিপালন না করায় শ্রম আদালতে মামলা হয়েছে। সেই মামলাটা তিনি সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন, মামলা চলবে। পরবর্তীতে সাক্ষ্য প্রমাণ নিয়ে এটা শেষ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশিরাতো আমাদের দেশের আইনি ব্যবস্থা সম্বন্ধে কোনোকিছুই জানেন না। আমাদের দেশের আইনগত পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া সম্বন্ধে তাদেরতো ওইভাবে পরিষ্কার ধারণা নেই। যার কারণে আমাদের এখান থেকে যেটা বলা হয়, তারা সেটাই অনুসরণ করে বক্তব্য রাখেন। সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি যে, আমাদের যারা (সরকারবিরোধী পক্ষ ও রাজনৈতিক দল) এখানে ছিলেন তারা হয়তো তাদের সেভাবেই বলেছেন।’
এ এম আমিন উদ্দিন আরও বলেন, ‘ওই রাজনৈতিক দলতো সরকার ও রাষ্ট্র যা করে তারই তো বিরোধিতা করে। এটা (ড. ইউনূসের মামলা) যে করছে রাজনৈতিক কারনে করছে। তারাই হয়তো সেটাকে বিভিন্ন দেশে রং দিয়ে সঠিক তথ্য প্রদান না করে তারা বিভিন্ন দেশের কাছে পাঠাচ্ছেন।’
বিনাদোষে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে- ড. ইউনূসের এমন বক্তব্যে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি কখনো দেখিনাই কোনো মামলায় যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় তিনি বলেন যে, তিনি অভিযুক্ত। উনি যদি স্বীকার করতেন তাহলে তো বিচারই হতো না। তখন উনাকে আদালত শাস্তি দিতে পারত। উনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল দোষী না নির্দোষ। যেকোনো মামলাতেই কেউ যদি বলে নির্দোষ তখনি কিন্তু বিচার হয়। ওনি যদি বলতেন যে দোষী তাহলো তো ব্যাতিক্রম হতো।’
বিএনপির হাজারের বেশি নেতাকর্মীর সাজা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আপনি নিশ্চিত থাকেন, ১০টা, আটটা বা ১২টা মামলা (নতুন মামলা) হতে পারে। এর বেশি নয়। ২০১৩, ১৪, ১৫ বা ১৬ সালে যে মামলাগুলো হয়েছে আপনারা নিজেরাই জানেন সেই মামলাগুলো হাইকোর্টে স্থগিত ছিল। মামলায় স্থগিতাদেশ যখন প্রত্যাহার করা হয় তখনতো বিচারিক আদালতে মামলাগুলোর শুনানি হবে। সবচে পুরনো মামলাতেও তো শুনানি হবে।’
বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের আদালত বর্জন কর্মসূচি নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘উচ্চ ও অধঃস্তন আদালতগুলোর কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনজীবী শুনানি করেছেন। কেউ কেউ হয়তো করেননি। তাতে কিন্তু আদালতের কার্যক্রমে প্রভাব পড়েনি।’